“✨ ১২ বছরের গল্প, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে কুষ্টিয়াশহর.কম”

Select your language

শাহ আব্দুল করিম
  • Sub Title: তারা সবাই বাস করে এক ভালোবাসার জগতে

স্বচক্ষে দেখিলাম যাহা বিলাতে
তারা সবাই বাস করে এক ভালোবাসার জগতে।।

বিলাতে পুলিশ যারা মানুষ নয় দেবতা তারা
দিনরাত ঘোরাফেরা করতেছে পথে পথে।
খায় না ঘুষ নাই দুর্নীতি সরল শান্ত শুদ্ধমতি
জানে শুধু প্রেম প্রীতি মানুষকে ভালোবাসতে।।

বাস করতেছে বহু জাতি নিরপেক্ষ ধর্মনীতি
হিংসা নাই কারো প্রতি ধর্ম কর্ম করিতে।
কী সুন্দর নীতি বিধান সবার অধিকার সমান
যার তার ভাবে গায় গুণগান মসজিদ মন্দির গীর্জাতে।।

সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার আলো সবাই যে পায়
আনন্দে মন ভরে যায় এই সব কথা ভাবিতে ।
গড়ে তুলতে শিশুসন্তান তারা যে কত যত্নবান
চায় তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণ উত্তম সমাজ গড়িতে।।

কোনো সময় কেউ ব্যারাম হলে ডাক্তার আসে খবর দিলে
হাসপাতালে রোগী গেলে রাখে পরম শান্তিতে।
লাগে না টাকা পয়সা সবাই পায় সুচিকিৎসা
সেবা যত্ন ভালোবাসা ভুল নাই কোন জায়গাতে।।

অন্যায় কিছু করতে চায় না অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না
করে না প্রতারণা কোনো মানুষের সাথে।
দেশের মূল বাসিন্দা যারা মিথ্যা বলে না তারা
মানুষের উপকার ছাড়া চায় না ক্ষতি করিতে।।

সভ্য-ভদ্র তারা সবাই এতে কোনো সন্দেহ নাই
বাস্তবে যা দেখিতে পাই আচার আচরণেতে
চলাফেরা কথাবার্তায় যদি কোনো ভুল হয়ে যায়
অমনি তারা ক্ষমা চায় অহংকার নাই মনেতে।।

আস্তে আস্তে কথা বলে সদা মন কৌতূহলে
একাত্ম হয়ে চলে নারী পুরুষ এক সাথে।
নিরাপত্তা আছে সবার নাই কোনো জুলুম অত্যাচার
কী সুন্দর আচার ব্যবহার চমৎকার সব দেখিতে।।

চায় সদা সৎ আনন্দ ভালো বৈ করে না মন্দ
গড় যাহা করেন পছন্দ তাই করে এ ধরাতে।
জীব সমষ্টি শান্তির আশায় আজীবন চেষ্টা করে যায়
ওরা সবাই তাই তো চায় ইসলাম যা চায় জগতে।।

আছে জাতীয় একতা আছে তাদের মানবতা
নাই পরশ্রীকাতরতা চায় সাহায্য করিতে।
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আদান-প্রদান চলাফেরায়
পরম শান্তিশৃঙ্খলায় আছে সবাই শান্তিতে।।

কাঁদে না কেউ পেটের ক্ষুধায় দেশের সমাজব্যবস্থায়
কুকুর বিড়াল রেশন পায় সরকার দেয় হিসাব মতে।
দেশে কেউ পাখি মারে না আইনত আছে মানা
পাখিরা ভয় করে না ডাকলে আসে কাছেতে।।

উন্নত ধনে জ্ঞানে দেশ গঠন জাতি গঠনে
তারা কিন্তু সবাই জানে সময়ের মূল্য দিতে।
কী করেছে দেশের ভিতর কে জানে তার আসল খবর
করেছে সর্বাঙ্গীন সুন্দর বাহির ও ভিতরেতে।।

অজস্র রাস্তা করেছে মাটির উপরে নিচে
ইঙ্গিতে লিখা আছে কে যাইবে কোন পথে।
উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দিন হতে রাত ভালো বুঝায়
যে দিকে চাই মন ভুলে যায় ইচ্ছা হয় চেয়ে থাকতে।।

মাদাম তোসা এক জায়গায় নাম একদিন মাত্র গিয়েছিলাম
কী যে আশ্চর্য দেখিলাম পারি না আর ভুলিতে।
মরা মানুষ খাড়া সেথায় অবিকল জিন্দা দেখা যায়
পলক মারে চোখের পাতায় চায় যেন কথা বলতে।।

পৃথিবীর গণ্যমান্য যারা ছিলেন স্বনামধন্য
অনেকেরে স্মৃতির জন্য গড়ে রাখছে নিজ হাতে।
এক ঘরের ভিতরে ভরা চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা
আকাশমইল তৈয়ার করা বৈজ্ঞানিক কৌশলেতে।।

একদিন গেলাম মাটির তলে তারা আণ্ডারগ্রাউন্ড বলে
লাইন আছে ট্রেন চলে, চলে সহস্র পথে
করেছে কী আজব লীলা একতালা নয় সপ্ততালা
হাট-বাজার খেলাধুলা শান্তি শৃঙ্খলাতে।।

টেমস নদীর নিচে দিয়া দিয়াছে রাস্তা করিয়া
গাড়ি ট্রেন এ রাস্তা দিয়া চলতেছে শতে শতে।
উপরে চলে স্টিমার কী অপরূপ দৃশ্য তাহার
আছে কত রঙের বাজার আমোদ প্রমোদ করিতে।।

রয়েছে উন্নত স্থান আসেন সেথায় আরবিয়ান
দুনিয়ায় বেহেশতের বাগান বুঝিলাম ভাব ভঙ্গিতে।
আছে শরাবনতহুরা আছে সুন্দরী জহুরা
এসব জায়গায় ধনী ছাড়া গরিব পারে না যাইতে।।

দেখিয়াছি রানির বাড়ি যেন এক স্বর্গপুরী
বাহির থেকে আফসোস করি দেয় না ভিতরে যাইতে।
দিল্লির ময়ূর সিংহাসন কোহিনুর পরশরতন
রেখেছে করিয়া যতন এই বাড়ির ভেতরেতে।।

রাজনীতির নাই সহস্র দল নাই ক্ষমতালোভী পাগল
ছাত্ররা নহে চঞ্চল মারামারি করিতে।
নেতারাও তাই করে না স্বজনপ্রীতির ধার ধারে না
তারা ক্ষমতায় যায় না ধনের পাহাড় জমাইতে।।

বাঙালি যারা আছেন বিলাতে বাস করিতেছেন
স্কুল-কলেজ গড়িতেছেন বাংলার প্রসার ঘটাইতে।
ছেলে-মেয়ে আছে যারা বুঝে না ইংরেজি ছাড়া
বাংলা বলে না তারা একে অন্যের সাথে।।

সমষ্টির স্বার্থে কেহ নাই ব্যক্তিস্বার্থে পাগল সবাই
আস্থাভাজন মানুষ চাই জাতির নেতৃত্ব দিতে।
চাইলে জাতির উন্নতি ঠিক করতে হয় নীতি গতি
নইলে কেবল দুর্গতি ফল হয় না ভবিষ্যতে।।

মুসলমান আলেম যারা ধর্ম-কর্মে ব্যস্ত তারা
তাদের মধ্যে দুটি ধারা চলিতেছে দ্বি-মতে।
কেউ দুয়াল্লিন কেউ জুয়াল্লিন পড়েন
ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ করেন
আসলে কেউ কি পারেন নিজকে সামাল দিতে।।

মসজিদ মাদ্রাসা হয়েছে জানি না কী হবে পাছে
ধর্মীয় অধিকার আছে মাইকযোগে আযান দিতে।
হয়ত কেউ দিবেন গালি আসল কথা যদি বলি
চলিতেছে দলাদলি মসজিদ-মাদ্রাসাতে।।

উনিশশো পঁচাশি সনে বিলাত থেকে কয়েকজনে
হঠাৎ ভাবিলেন মনে সিলেটের শিল্পী আনতে।
শিষ্য মোর রুহী ঠাকুর, কাজি আয়শা, শফিকুন নুর
হাফিজ উদ্দিন বড় চতুর যোগ দিবে সে তবলাতে।।

তারা আমায় বলিল দেশ দেখতে চাও তবে চল
আমারও ইচ্ছা ছিল, চলিলাম তাদের সাথে।
বিলাতে যখন পৌঁছিলাম সর্বমোট আষ্টজন ছিলাম
দেশ এবং মানুষ দেখিলাম পড়িলাম ভাবনাতে।।

দেখলাম যত বলব কত দেখে হলেম মর্মাহত
আমি কেন নীতিগত পারলাম না সেবক হতে।
মানুষের সঙ্গে চলি সুখ দুঃখের কথা বলি
মানবরূপী দানবগুলি মিল নাই ওদের সাথে।।

বাউল আবদুল করিম বলে সৎ এবং সরল হলে
ভবিষ্যতে শান্তি মিলে পরশ মিলে লোহাতে।
জ্ঞানের কমল যদি ফোটে আলো আসে আঁধার টুটে
বিরাজ করে প্রতি ঘটে যারে খোঁজে জগতে।।

Add comment
Posting any form of obscene comment is prohibited; doing so will result in legal action.

বাউল গান এর নতুন প্রবন্ধ

কবিয়াল রমেশ শীল

তোরা জেনে শুনে ঠকিস না

  • Sub Title: ভাণ্ডারীর তরীকা মতে কাজ না কইরা ছাড়িস না
কবিয়াল রমেশ শীল

বন্ধু কোথায় রইলে ও আমারে

  • Sub Title: শ্রী রমেশ শীল মাইজভাণ্ডারী
দুর্বিন শাহ

অতি আদরের বউ

  • Sub Title: মশায় খাইল রে
হাসন রাজা

কেন আইলায় না রে, রাধার কালা চান্দ

  • Sub Title: বাঁশিটি বাজাইয়া আমার লইয়া যাও পরাণ
তারে ভাবলে কি আর
তারে ভাবলে কি আর

তারে ভাবলে কি আর

  • Sub Title: না দেখলে নয়নে রে বন্ধু
মাইজভাণ্ডারী গান

মোর্শেদো মাওলায়ে জঁমাতু মেরে

  • Sub Title: মালেকো মোখতারে জাঁহা তুহি তো ওয়ালা সান হায়
শাহ আব্দুল করিম

সালাম আমার শহীদ স্মরণে

  • Sub Title: দেশের দাবি নিয়া দেশপ্রেমে মজিয়া
মাইজভাণ্ডারী গান

বন্ধু তব মুখের জ্যোতি

  • Sub Title: প্রাণ মজ্জা চিকুর সুগন্ধে সুগন্ধিত হয়
দুর্বিন শাহ

ওরে সুজন নাইয়া

  • Sub Title: নীল যমুনায় কোথায় যাও রে বাইয়া
মাইজভাণ্ডারী গান

হায় একি মোর দুঃখ ঘোরতর

  • Sub Title: ঘটিল বিষম দায়

সর্বশেষ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তথ্য সম্পর্কে খবর

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপডেট থাকুন