“হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি… আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে তাকওয়াবান।” — সূরা হুজুরাত, ৪৯:১৩

Select your language

ফকির লালন শাঁই

ফকির লালন শাঁই

ফকির লালন শাঁহ (Fakir Lalon Shah) সে দিন ভোর বেলা মওলানা মলম ফজরের নামাজ পড়ে কালীগঙ্গা নদীর দিকে হাওয়া খেতে আসলেন, হটাতই দেখতে পেলেন এক অচেনা সংজ্ঞাহীন যুবক অধঃজলমগ্ন অবস্তায় পড়ে আছে, ছেলেটির মুখে ও শরীরে বসন্ত রোগের দাগ বিদ্যমান। তিনি কাছে গিয়ে দেখলেন ছেলেটি বেঁচে আছে, খুব ধীরলয়ে চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস। নিঃসন্তান হাফেজ মলমের বুকের ভেতর হু হু করে উঠল, এ কোন অচেনা যুবক নয়; খোদা যেন তাঁর সন্তানকে ভাসিয়ে এনেছেন তাঁর কাছে। মলম তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরলেন এবং তাঁর অপর তিন ভাইকে সাথে নিয়ে আসলেন।

এবার চার ভাইয়ে ধরাধরি করে অচেতন যুবককে নিজের বাড়িতে আনলেন। মলম ও মতিজান দিন রাত পরম যত্নে সেবা করতে লাগলেন। দিনে দিনে অচেনা যুবকটির মুখে জিবনের আলো ফিরে এলো। মতিজান জিজ্ঞাসা করলো – বাবা তোমার নাম কি ?

---- ফকির লালন।

  • মন আমার গেল জানা

    কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন

    মন আমার গেল জানা
    কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন
    তবে রে কেন এত বাসনা।

  • খুলবে কেন সে ধন মালের গ্রাহক বিনে

    মুক্তামণি রেখেছে ধনি বোঝাই করে সেই দোকানে

    খুলবে কেন সে ধন
    মালের গ্রাহক বিনে,
    মুক্তামণি রেখেছে ধনি
    বোঝাই করে সেই দোকানে।।

  • ভুলো না মন কারো ভোলে

    রাসুলের দিন সত্য মান ডাক সদাই আল্লা বলে

    ভুলো না মন কারো ভোলে।
    রাসুলের দিন সত্য মান ডাক সদাই আল্লা বলে।।
  • আমার মন চোরারে কোথা পাই

    কোথা যাই, ও মন আজ কিসে বোঝাই

    আমার মন চোরারে কোথা পাই।।
    কোথা যাই, ও মন আজ কিসে বোঝাই
    আমার মন চোরারে কোথা পাই।।
  • সাঁইর লীলা বুঝবি ক্ষ্যাপা কেমন করে

    লীলার যার নাইরে সীমা কোন সময় কোন রুপ সে ধরে

    লীলার যার নাইরে সীমা কোন সময় কোন রুপ সে ধরে।
    সাঁইর লীলা বুঝবি ক্ষ্যাপা কেমন করে।।
  • কোথায় হে দয়াল কান্ডারী

    ভবতরঙ্গে এসে কিনারায় লাগাও তরী

    কোথায় হে দয়াল কান্ডারী
    ভবতরঙ্গে এসে কিনারায় লাগাও তরী।।
  • বাউলের আঞ্চলিক বৃত্ত ও পদকর্তা

    বাংলার বাউলদের আঞ্চলিক সীমারেখা হল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ইত্যাদি অব্জল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বাকুড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, চব্বিশপরগণা ইত্যাদি।

  • বাউল - সাইমন জাকারিয়া

    বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ সৃজনশীল সাধকদের মধ্যে বাউল সম্প্রদায় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এই সম্প্রদায় মূলত দেহ-সাধনা করেন এবং গানের মাধ্যমেই সেই দেহ-সাধনার কথা প্রকাশ ও প্রচার করেন। বাউলদের রচিত গানের ভাবের গভীরতা, সুরের মাধুর্য, বাণীর সার্বজনীন মানবিক আবেদন বিশ্ববাসীকে মহামিলনের মন্ত্রে আহ্বান করে।

  • তারে কি আর ভুলতে পারি

    মন দিয়েছি যে চরণে

    তারে কি আর ভুলতে পারি
    মন দিয়েছি যে চরণে।
  • মনের বিয়োগ জানে তারা

    আশেকে উন্মত্ত যারা

    আশেকে উন্মত্ত যারা
    তাদের মনের বিয়োগ
    জানে তারা।।
  • সোনার মানুষ ভাসছে রসে

    যে জেনেছে রসপন্থি সে

    সোনার মানুষ ভাসছে রসে
    যে জেনেছে রসপন্থি
    সে দেখিতে পায় অনায়াসে।।
  • কেন ডুবলি না মন গুরুর চরণে

    এসে কাল শমন বাঁধবে কোন দিনে

    কেন ডুবলি না মন গুরুর চরণে
    এসে কাল শমন বাঁধবে কোন দিনে।।
  • বলো স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি

    যার জন্য হয়েছি রে দণ্ডধারী

    বলো স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারি।
    যার জন্য হয়েছি রে দণ্ডধারী।।
  • এমন দিন কি হবে রে আর

    খোদা সেই করে গেল রসুল রূপে অবতার

    খোদা সেই করে গেল রসুল রূপে অবতার
    এমন দিন কি হবে রে আর।।
  • দয়াল নিতাই কারো ফেলে যাবে না

    ধরো চরণ ছেড়ো না

    দয়াল নিতাই কারো ফেলে যাবে না
    ধরো চরণ ছেড়ো না।।
  • আর কি বসবো এমন

    সাধুর সাধবাজারে

    আর কি বসবো এমন সাধুর সাধবাজারে।
    না জানি কোন সময় কী দশা হয় আমারে ।।
  • সমুদ্রের কিনারে থেকে

    ওরে বিধি হায়রে বিধি

    সমুদ্রের কিনারে থেকে
    জল বিনে চাতকী ম’লো।
  • মনের নেংটি এঁটে করো রে ফকিরী

    আমানতের ঘরে মনা হয় না যেনো চুরি

    মনের নেংটি এঁটে করো রে ফকিরী
    আমানতের ঘরে মনা হয় না যেনো চুরি।।
  • আমি কোন সাধনে তারে পাই

    আমার জীবনের জীবন সাঁই

    আমি কোন সাধনে তারে পাই।
    আমার জীবনের জীবন সাঁই।।
  • সাধু হুমায়ুন ফকির

    হুমায়ন কবীর (জন্মঃ ৩রা মে ১৯৫৮ মৃত্যুঃ ২৬শে মার্চ ২০১৭ইং) নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার উত্তর মির্জানগর খানাবাড়ী গ্রামে জন্মেছিলেন হুমায়ন কবীর ওরফে ফকীর হুমায়ন সাধু। জন্মস্থানে নিজের নামে আখড়া বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে লালনভক্তদের নিয়ে হতো সাধুসঙ্গ। সিংগায় ফুঁ দেওয়ার শিরোমনি বলা হতো হুমায়ুন সাধুকে। একটানা ৮ মিনিট (মতান্তরে ২৫ মিনিট!) ফুঁ দিতেন তিনি।

সর্বশেষ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তথ্য সম্পর্কে খবর

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপডেট থাকুন