বাউল গান
বাউল গান বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রাণবন্ত লোকসংগীতের ধারায় এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। এই গানে আত্মার মুক্তি, প্রেমের কথা, জীবন দর্শন ও মানবতাকে সুন্দর এক সুরে মিলিয়ে আনা হয়। বাউল শিল্পীরা নিজেদের জীবনের সাধনা ও বিশ্বাসকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা মানুষের মনের গভীরে ছুঁয়ে যায়। এই ক্যাটাগরিতে আপনি বাউল গানের ইতিহাস, বিখ্যাত বাউল শিল্পী, গানের কথ্য অর্থ, জীবন দর্শনের নানা দিক এবং বাউল সঙ্গীতের অনন্য সৌন্দর্যের বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। বাউল গানের মাধুর্য ও তার জীবনের গভীরতা আপনাকে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলবে।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 80
বন্ধুয়া রে, যত দোষী তোমার লাগিয়া
তোমার কি দয়া লাগে না আমার দুঃখ দেখিয়া।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 77
বন্ধু রে, কাঙালে কি পাইবে তোমারে?
দীনবন্ধু নাম শুনিয়া ভরসা তাই অন্তরে।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 87
বন্ধু তুমি জীবনের জীবন
দয়া করে একবার মোরে
দাও তোমার রাঙা চরণ।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 70
বন্ধু রে, কী বলব তোমারে, ছেড়ে যেও না দূরে
তুমি বিনে অভাগীরে কে রাখবে আদরে-
ছেড়ে যেও না দুরে।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 77
বন্ধুয়া রে, তুমি আমারে দিও না ফাঁকি
তুমি আমার সর্বস্বধন তাই তোমায় এত ডাকি।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 108
বড় ভাবী গো ভাইসাবরে
বুঝাইয়া কইও চাই
আমি তানরে কী বলিব
তাইন যে আমার বড় ভাই।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 84
বসন্ত বাতাসে ও সই গো বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে
সই গো বসন্ত বাতাসে।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 81
চাল ছানিত্ কামলা চাচা দিলায় না
মাইয়ে করলা মুরুগ জবো
আইয়া তুমি খাইলায় না।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 100
চৈত্র মাসে বৃষ্টির জলে নিল বোরো ধান
ভেবে মরি হায় কী করি বাঁচে কি না প্রাণ।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 85
ডাকলে দয়া করো বলে
সকলের জানা
তাই তো এত ডাকাডাকি
সবাই চায় তোমার করুণা।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 83
দারুণ দুর্ভিক্ষের আগুন
লাগলো কলিজায় রে
প্রাণে বাঁচা দায়
প্রাণে বাঁচা দায় রে।।
- Details
- Written by: সালেক উদ্দিন শেখ
- Category: বাউল সঙ্গীত
- Hits: 79
ধল গ্রামে প্রথম যখন হলো ধলবাজার।
বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ে এলেন দোকানদার।।
যার যাহা ভালো হয় বুঝে তারা নিল।
ভুশিমালের দোকান এক মহাজনের ছিল।।
বর্ষাতে একেবারে বেকার ছিলাম।
মহাজনের দোকানে চাকরি নিলাম।।
চাকরির বিনিময়ে যে বেতন নিতাম।
তা নিয়ে পিতামাতার কাছে দিতাম।।
তখন ব্রিটিশ শাসন এই দেশে ছিল।
বড়দের শিক্ষার জন্য রাত্রে স্কুল দিল।।
তৈমুর চৌধুরী তখন মাস্টারি নিলেন।
নিরক্ষর সবাইকে জানিয়ে দিলেন।।
সুযোগ পেয়ে আমি সেই স্কুলে ভর্তি হই।
বিনা মূল্যে দিল একটি বড়দের বই।।
পরে শুনি এই স্কুলে শিক্ষা যারা পাবে।
নাম দস্তখত শিক্ষার পরে যুদ্ধে নিয়ে যাবে।।
এই মিথ্যা গুজব-বাণী গ্রামে যখন এল।
পড়িতে কেউ আসে না আর স্কুল বন্ধ হলো।।
বড়দের বই আমার হয়ে গেল সাথি।
প্রয়োজন আছে তাই পড়ি দিবা রাতি।।
অক্ষরজ্ঞান আমার হলো তাড়াতাড়ি।
পুঁথি পুস্তক তখন পড়তে আমি পারি।।
জানার জন্য বিভিন্ন বইপুস্তক পড়ি।
গান গাই আর উপস্থিত রচনা করি।।
একতারা নিয়ে আমার একা গান গাই।
এক মনে চেষ্টা করি বাউল হতে চাই।।
রাত্রে খাওয়ার পরে সময় যখন পাই।
উস্তাদ করম উদ্দিনের কাছে তখন যাই।।
সঙ্গীতপ্রিয় লোক ছিলেন জ্ঞানে মহান।
দোতারা বাজিয়ে গাইতেন ভক্তিমূলক গান।।
প্রতিদিন উস্তাদের সঙ্গ করতে পারি।
উস্তাদের বাড়ির পাশে ছিল আমার বাড়ি।।
আসদ্দর আলী হলেন উস্তাদের পুত্র।
তিনিও ধরলেন এই বাউল গানের সূত্র।।
ঈদ এসেছে ঈদের দিন বাড়িতে ছিলাম।
জামাতে যাইতে সবার সঙ্গ নিলাম।।
গ্রামের দুই এক মুরব্বি মোল্লাগণ সাথে।
ধর্মীয় আক্রমণ এল ঈদের জামাতে।।
জামাত আরম্ভের পূর্বে মুরব্বি একজন।
ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেন তখন।।
জানতে চাইলেন, গান গাওয়া পারে কি পারে না।
ইমাম বললেন, গান গাওয়া আল্লা-নবির মানা।।
মুরব্বি বললেন, তবে জিজ্ঞাস করো তারে।
গান সে ছাড়বে কিনা বলুক সত্য করে।।
ইমাম বললেন, কিতা জি বাঁচতে এখনো পার।
তওবা করে বেশরা বেদাতি কাম ছাড়ো।।
সবার কাছে প্রথম বলো আমি এসব করব না।
আমি বললাম, সত্য বলি গান আমি ছাড়ব না।।
মুরব্বি বললেন, দেখ কী করা যায় তারে।
সবার সামনে এই কথা বলতে কি সে পারে?
যাই করুক এখন বলা উচিত ছিল তার।
এই সমস্ত কর্ম আমি করিব না আর।।
আমি বললাম, এসেছি আজ জামাত পড়িতে।
ইচ্ছা নয় মিথ্যা কোনো কথা বলিতে।।
ছাড়তে পারব না আমি নিজে যখন জানি।
উপদেশ দিলে বলেন কী করে তা মানি।।
পরে করিব যাহা এখন বলি করবো না।
সভাতে এই মিথ্যা কথা বলতে পারব না।।
এই সময় অন্য এক মুরব্বি বললেন।
আপনারা এখন কোন পথে চললেন।।
এই আলাপ ঘরে বসে পারি করিতে।
এখন এসেছি ঈদের নামাজ পড়িতে।।
এক গ্রামে বাস করি হিন্দু-মুসলমান।
কে না গেয়েছি বলেন জারি সারি গান।।
একতারা দিয়ে গায় একা গান তার।
ঈদের জামাতে কেন এই গানের বিচার?
এই আলোচনা এখন বন্ধ করেন।
নামাজ পড়তে এসেছি নামাজ পড়েন।।
মুরব্বি হতে এই কথা যখন এলো।
এই বিষয় এখানেই শেষ হয়ে গেল।।
জামাত শেষ হলে পরে আসিলাম বাড়িতে।
কী করিব গান যে আমি পারি না ছাড়িতে।।
মনে ভাবি দয়াল যাহা করেন আমারে।
আমার নৌকা ছেড়ে দিলাম অকূল পাথারে।।
বাংলা
English