“✨ ১২ বছরের গল্প, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে কুষ্টিয়াশহর.কম”

Select your language

লালন মানবতাবাদ - বাংলার রেনেসাঁস ও লালন ফকির
লালন মানবতাবাদ - বাংলার রেনেসাঁস ও লালন ফকির
  • Sub Title: চর্যাপদ থেকে লালন ফকির: হাজার বছরের ধারাবাহিকতায় বাংলার মানবতাবাদের উজ্জ্বলতম মূর্তি

মানবতাবাদ অতি আধুনিক দর্শন এবং আধুনিক রেনেসাঁসের ফসল। মানবতাবাদ ল্যাটিন Humanism শব্দের প্রতিশব্দ। যার অর্থ হলো মানবিক বিষয়াদির প্রতি আগ্রহ, মনুষ্যকল্যাণকর নীতিজাত দার্শনিক মতবাদ। ধর্মতত্ত্ব বাদ দিয়ে কেবল লৌকিকতার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের কল্যাণ অনুসন্ধানই এর প্রধানতম উদ্দেশ্য। যদিও খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিক দার্শনিক প্রোটাগোরাস প্রথম মানবতাবাদের কথা বলেন, তবু রেনেসাঁস-পূর্ব পর্যন্ত ইউরোপে এই মানবতাবাদ ততটা প্রবলভাবে চর্চিত হয়নি। রেনেসাঁসের মূলমন্ত্র হলো মানব-মহিমা, বুদ্ধি ও কষ্টনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও যুক্তিবাদের মধ্যে বুদ্ধিকে মুক্ত করে দেওয়া। রেনেসাঁস মানে নতুন করে জেগে ওঠা। মানববুদ্ধির যৌক্তিক মুক্তি। রেনেসাঁসের ইতিহাস তাই নতুন করে শুরু করার ইতিহাস — বুদ্ধি ও কল্পনার মুক্তির ইতিহাস।

ইউরোপে মানবতাবাদের চর্চা রেনেসাঁসের ফসল হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে মানবতাবাদের চর্চার একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলা ভাষার অভিধান ও বিশ্বকোষগুলোতে 'মানব' শব্দটির উৎপত্তির মূলে 'মনুষ্য' অর্থাৎ মনুর অপত্য তথা 'মনু'র স্নেহভাজন বা পুত্রবৎ বলে নির্দেশ করে এবং বলে যে মনুষ্যকে মানব বলা হয়। তাই ইতিহাসের পাতা থেকে আমরা একথা বলতে পারি যে আর্য প্রভাব বিস্তার লাভের সমপর্যায়ের কোনো একসময়ে 'মনুর সন্তান মানুষ'র ধারণাটি ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে থাকবে। আর অখণ্ড মানবসত্তা থেকেই মানবতাবাদ শব্দটি আসতে পারে।

বাংলাদেশে মানবতাবাদের এক দীর্ঘ ইতিহাসের সন্ধান আমরা পাই। আমাদের এখানে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানবতাবাদ সবার নজরে এসেছে। বাংলাদেশে মানবতাবাদের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের। অর্থাৎ চর্যাযুগ থেকে এর চর্চার ইতিহাস আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আসে। সেই চর্যাপদী যুগ থেকে শুরু করে নাথসাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণবমাহিত্য, সুফিমাহিত্য, শাক্তপদ, বাউলগান ইত্যাদির মধ্যা দিয়ে মানবতাবাদের অনুশীলনের ধারাবাহিক ইতিহাস আমাদের সামনে চলে আসে। চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধমতের অনুসারী। তাঁরা উদারপন্থী মানবতাবাদী ছিলেন। তারা সবাই যদিও উচ্চশিক্ষিত, শাস্ত্রজ্ঞানী সাধক ছিলেন তবুও তাদের মধ্যে সকল মানুষ এক ইস্বরের সৃষ্টি ও মানে-অবস্থান সবাই এক — এই ধারণার অনুশীলন ছিল। বিশিষ্ট চর্যাপদ রচয়িতা কাহ্নপা ডোম্বির চুম্বন এবং তার সঙ্গে প্রণয়ের কথা বলেন। ভুসুকুপা এক ডোম্বিকে বিয়ে করে বাঙালি হন। আমরা জানি জাতিভেদ প্রথাকবলিত ভারতীয় সমাজে ডোম্বি বর্ণহীন নিম্ন শ্রেণীর রমণী। কিন্তু চর্যাপদের রচয়িতারা নিজদের মধ্যে শ্রেণিভেদ মানতেন না। বরং বলা চলে সমাজের এই শ্রেণিভেদকে তাঁরা অস্বীকার করে মানবপ্রেমের মন্ত্রে বলীয়ান ছিলেন। তাঁদের কাছে সমাজ প্রবর্তিত জাতিভেদ প্রথা, শ্রেণী নয় অখণ্ড মানবসত্তাই বড় ছিল। সরহপা তাই বলেন, ব্রাহ্মণ সম্পর্কে এমন উক্তি করতে পেরেছেন অবলীলায়,

'ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মার মুখ হইতে হইয়াছিল; যখন হইয়াছিল, তখন হইয়াছিল, এখন তো অন্যেও যেইরুপ হয় ব্রাহ্মণে সেইরূপে হয়, তবে আর ব্রাহ্মণত্ব রহিল কি করিয়া?' যদি বল, 'সংস্কার ব্রাহ্মণ হয়, চণ্ডালকে সংস্কার দাও, সে ব্রাহ্মণ হউক, যদি বল বেদ পড়িলে ব্রাহ্মণ হয় তাহারাতও পতুক, আর তাহারা পড়েও তো, ব্যাকরণের মধ্যে তো বেদের শব্দ আছে।'

তিনি তাঁর দোহা গানে স্পষ্ট ভাষায় বেদাচারের বিরোধিতা করে বলেন,

কিং তো দিবে কিং তো নিবিজ্জে
কিং তো কিন্তুই মন্তহ সেব্বে।
কিং তো তিথ তপোবন যাই
মোকখ কি লভবই পানি হণই।

অর্থ — কী হবে তোর দীপে, কী হবে তোর নৈবেদ্যে? কী হবে তোর মন্ত্রে ও সেবায়? তীর্থে তপোবনে গিয়েই বা তোর কী হবে? মোক্ষ কি লাভ হয় জলে স্নান করে?

কবি চণ্ডীদাস এঁদেরই উত্তরসাধক। তিনি নিজে উচ্চ শ্রেণীর ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি রজকিনী রামীকে ভালোবেসে অপমানিত ও সমাজচ্যুত হন। কিন্তু মানবতাবাদের মহান কবি রজকিনীর প্রেম ভোলেননি এবং আপন বিশ্বাস হারাননি। যদিও তিনি বৈষ্ণব ছিলেন না, ছিলেন বাসুলি সেবক বা শক্তির উপাসক। কিন্তু তাঁর রচিত বৈষ্ণব পদ মানবপ্রেমে ভরপুর এবং মানবতাবাদের দিশারী। তিনিই উদাত্ত কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন,

শুনহ মানুষ ভাই,
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

তিনি মানুষে মানুষে ভেদভেদ মানতেন না। তাঁর কাছে মানুষই সব, মানুষ সবার ওপরে। ধর্ম, গোত্র, জাতি, ঈশ্বর — সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ তাঁর কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তার মতে, মানুষ সবাই অমৃতের সন্তান। মানুষে মানুষে যে ভেদ তা সঠিক নয়। মানুষ মানুষই। সকল মানুষ সমান। তাই তো তিনি ব্রাহ্মণ হয়ে ধোপার মেয়ে রজকিনী রামীকে ভালোবেসে সমাজকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের মহিমাকীর্তন করেছেন বলিষ্ঠ কণ্ঠ।

এদেশে সুফিদের আগমন শুরু হয় অষ্টম শতাব্দী থেকে চৌদ্দশ হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল দখল করলে সুফিরা তাদের আদর্শ, ধর্ম ও দর্শন ব্যাপকভাবে প্রচার শুরু করেন। ইতোমধ্যে ইরানি সুফিমত বাংলার লোকায়ত দর্শনের প্রভাবে নতুন রূপ লাভ করেছে। সুফিতত্ত্বের মধ্যে বাংলার মানবিক মরমি দর্শন ঢুকে পড়ে। প্রেমপন্থী সুফিদের মধ্যে মানবতাবাদের উন্মেষ ঘটে। সুফিদের 'মান আরাফা নাফসা হু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহ' — বাংলার লোকায়ত দর্শনের স্পষ্ট নব প্রাণ লাভ করে। ইসলামের ভক্তিমার্গের সঙ্গে প্রেমমার্গ মিলে নতুন ধারার সৃষ্টি হয়। সুফিদের সাধ্য-সাধনা হয়ে ওঠে মানবিক। মানুষের ভেতর দিয়েই সুফিরা আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা করতে থাকেন। ফলে ভজন সাধন হয়ে ওঠে মানুষমুখী। সুফিদের প্রেমতত্ত্বের সঙ্গে মানবতাবাদ বাংলায় নতুন জোয়ার নিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে পনেরো শতকে আবির্ভাব হয় শ্রীচৈতন্যদেব। তিনি সংসারধর্ম ত্যাগ করে কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে থাকতেন। তিনি সংস্কারপন্থী হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথার প্রতি কুঠারাঘাত করেন। তাঁর মতে, ভক্তের কোনো জাত নেই। তিনি বলেন, 'মুচি হয় শুচি যদি কৃষ্ণ ভজে' অথবা 'চণ্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠ হরিভক্তপরায়ণঃ' — কৃষ্ণভক্তপরায়ণ চণ্ডাল কৃষ্ণভক্তিহীন ব্রাহ্মণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। হিন্দু সমাজের কঠোর বর্ণপ্রথার কারণে সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ যখন মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো না, তখন চন্ডাল, মুচি প্রভূতি বর্ণহীন মানুষকে তিনি এভাবে মহিমা প্রদান করেন। এরপর ষোড়শ শতকে সম্ব্রাট আকবর দ্বীন-ই-এলাহি নামে এক সমন্বয়ধর্মী নতুন ধর্ম প্রবর্তন করে হিন্দু-মুসলমানকে হিন্দু-মুসলমান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখে তাদের এক কাতারে আনার চেষ্টা করেন। তাঁর দ্বীন-ই-এলাহিতে সব ধর্মের লোকের সমান প্রবেশাধিকার ছিল। সবাই এই ধর্মে সমানভাবে মোক্ষ লাভের সুযোগ পেত। এখানে ইতরবিশেষ পার্থক্য করা হতো না। ভারতজুড়েই ইতিহাসের নানা পর্বে শাস্ত্রাচারী কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদ তথা গোঁড়া ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি উদারপন্থী মানবিক ধর্ম ও দর্শনের চর্চা সমানভাবে হয়েছে। তারই ধারাবাহিক উত্তারাধিকার সাধক হিসেবে লালন ফকিরের আবির্ভাব। তাই লালন ফকির উত্তরাধিকার হিসেবেই মানবতাবাদকে পেয়েছিলেন।

লালন তত্ত্বজ্ঞানী বাউলসাধক। তাঁর সম্প্রদায়ের সাধনার তাগিদ থেকে তিনি তাঁর পদ রচনা করেছেন। বাউল মতবাদকে পণ্ডিতগণ ধর্মীয় মতবাদ হিসেবে মানতে নারাজ। কিন্তু এই মতবাদের আচারের মধ্যে ধর্মীয় সাধনার অনেক উপাদানই বর্তমান। বাউল মতবল্মবীরা সমাজের নিচু স্তরের মানুষ। এই মানুষগুলো ইতিহাসের প্রতিটি পর্বেই শাস্ত্রাচারী ধর্মের শোষণের শিকার হয়ে এসেছে। তাই শাস্ত্রীয় ধর্ম তাদের কাছে অনরকটাই পরিত্যাজ্য এবং তাদের জীবনের মুক্তির পরিপন্থী। বাউল সম্প্রদায়ের লোকেরা সমাজের সহজ মানুষ। তারা কোনো সামাজিক ঈশ্বরের কাছে তাদের মুক্তি খুঁজে পাননি। তাই তারা মানুষের শরণাপন্ন হয়েছেন জীবনের মুক্তির জন্য। এ কারণেই এসব মতবাদ এতটা মানবতাবাদী।

আমরা ভারতের গতিশীলিক মানবতাবাদের ইতিহাসের পথ ঘুরে এলাম। দেখলাম ভারতে মানবতাবাদের ইতিহাস অনেক পুরনো। ইতিহাসের নানা পর্বে সমাজের ধর্মীয় বিরুদ্ধ মতবাদ হিসেবেই ভারতীয় মানবতাবাদের চর্চা হয়েছে। লালনে এসে এই মানবতাবাদ আরো উজ্জ্বল আকার ধারণ করেছে। এর কারণ মনে হয় ইউরোপীয় রেনেসাঁস এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। ততদিনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে তার শিকড় গেড়ে বসেছে। তারা নানামুখী শিক্ষার প্রচলন এদেশে শুরু করে দিয়েছে। যার ফলে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হেনরি লুই ডিরোজিও, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয় কুমার দত্ত, কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, রাম গোপাল ঘোষ, রসিক কৃষ্ণ মল্লিক, শিবচন্দ্র দেব, হরচন্দ্র ঘোষ, রাধানাথ শিকদার, কেশব চন্দ্র প্রমুখ শহুরে মানবতাবাদীর আবির্ভাব ঘটে। লালন প্রামের মানুষ। গ্রামীণ সমাজই তাঁর কর্মকাণ্ড ব্যাপৃত। লালন হয়তো উল্লিখিত শহুরে মানবতাবাদীদের মতো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হিলেন না এবং ইউরোপীয় মানবতাবাদের সঙ্গে হয়তো তার পরিচয় ঘটেনি, কিন্তু ভারতীয় গতিশীলিক মানবতাবাদের উত্তরসূরি তিনি। তাই তাঁর দর্শনে মানবতাবাদ আধুনিক ইউরোপের মানবতাবাদ থেকে আকার-প্রকার হয়তো কিঞ্চিৎ ভিন্ন। কিন্তু মূলে-মতে তা যে একই দর্শনের এপিঠ-ওপিঠ তা বোধ করি সবাই মানবেন। লালনের দর্শনের বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই রয়েছে মানুষ ও মানবতাবাদ। তিনি মানুষ ভিন্ন আর অন্য কিছু মানতে নারাজ। লালন মরমি ধারার সাধক। তাঁর সাধনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মনের মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়া। এই মনের মানুষ সেই পরম সত্তা। তবে সেই পরমের আবাসস্থল হিসেবে লালনদর্শন এই দেহধারী মানুষই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। আমার ভেতর দিয়েই সেই অদেখা আলোকসত্তার খোঁজ তারা করেছে। এইখানটায় লালনের দর্শন আর প্রচলিত ধর্মীয় দর্শনের মধ্যে তফাত। লালন দর্শনে বলা হয়েছে, ঈশ্বর বা আল্লাহ বলে যদি কিছু থাকে, তবে তা এই মানুষের ভেতর দিয়েই প্রকাশিত। তাই ভজন-পূজন সব এই মানুষেই লীন হওয়া উচিৎ। লালন এই মানুষের বাইরে আর অন্য কোনো তত্ত্ব মানতে নারাজ।

মানুষ তত্তু যার সত্য হয় মনে
সে কি অন্য তত্তু মানে।

এই 'মানুষতত্ত্ব' দেহধারী মানুষের তত্ত্ব। এই কায়ার মধ্য দিয়ে সেই কায়াহীনের সন্ধানই বাউলের সাধ্য-সাধনার মূল লক্ষ্য। কারণ বাউল বিশ্বাস করে এই মানুষের মধ্যেই সেই পরম মানুষ লীলাভরে বাস করেছেন। তাই তাকে ধরতে হলে এই মানুষই তাকে তালাশ করতে হবে। লালন বলেছেন,

এই মানুষে আছেরে মন,
যারে বলে মানুষ-রতন।
ফকির লালন বলে, পেয়ে সে ধন,
পারলাম না চিনতে॥

সুফিদের সেই 'ইন্নাল্লাহ খালাকাল আদামা ওয়ালাহ সুরাতিহি' — অর্থাৎ আমি আপন সুরতে আদম তৈরি করেছি — এই বাক্য মেনে নিয়ে আরো একটু গভীরে গিয়ে লালন বলেছেন, এই মানুষই ইস্বরের প্রতিরূপ। অর্থাৎ লালন আল্লাহ এবং আদমকে এক রুপে এক সত্তায় দেখেছেন,

লামে আলেফ লুকায় যেমন
মানুষে সাঁই আছে তেমন
তা নইলে কি সব নূরী-তন
আদম তনে সেজদা জানায়।

এখানে সাঁই এবং মানুষ একে অপরের পরিপূরক। আল্লাহ আপন সুরতে আদম তৈরি করে নিজে তার মধ্যে আত্মা হিসেবে বসে আদমকে চেতনা দান করলেন। তাই এই আদম সৃষ্টার প্রতিরূপ,  অবিকল কপি। লালন বলেন,

সেই যে আদমের ধড়ে।
অনন্ত কুঠরী গড়ে,
মাঝখানে হাতলে কল জুড়ে,
কীর্তিকর্মা বসলেন সেথা।।

সুতরাং সেই কীর্তিকর্মা এবং আদম ভিন্ন কিছু নয়। তাই আল্লাহ ফেরেস্তাদের এই মানুষকে সজলো করতে হুকুম দিয়েছেন। শাস্ত্রীয় ধর্ম মতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা হারাম। কিন্তু আল্লাহ নিজে তাঁর ফেরেস্তাদের আদমকে সেজদা করার হুকুম দিলেন। কেন? লালন বলেন,

আল্লাহ আদম না হইলে
পাপ হইত সেজদা দিলে
শেরেকি পাপ যাকে বলে
এ দ্বীন দুনিয়ায়।

এর চেয়ে বড় মানুষের মহিমাকীর্তন আর কোথাও আছে কি না তা ভেবে দেখার ব্যাপার। মানুষই ঈশ্বরের স্থানে প্রতিষ্ঠাপন করার মতো মানবতাবাদী চিন্তা আর কেও করেছে কি না তাও ভাববার বিষয়। মানুষই ঈশ্বরের প্রতিরূপ। তাই মানুষকে ভজনা করলেই ঈশ্বর ভজনা হয়। সে কারণেই লালন বারবার মনুষ ভজনের ওপর জোর দিয়েছেন।

সহজ মানুষ ভজে দেখ নারে মন দিব্য জ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে

লালনের কাছে এই বর্তমানটাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। কারণ মানুষের জীবন বর্তমানকে ঘিরে অবর্তীত। আর এই বর্তমানকে মহিমাময় করে তুলতে গেলে এই মানুষকে ভজনার মধ্য দিয়ে সোনার মানুষ হতে হবে। লালন এই মানুষকে ভজনা করাই সবকিছুর মূল বলে রায় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই মানুষকে ভজনা না করলে সমুলে ধ্বংস হতো হবে। লালন বলেছেন,

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
নইলে পরে ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি।।

শুধু তাই নয়, তিনি আরো বলেছেন, এই মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই নাই। মানুষ ভজনের জ্ঞান ছাড়া এই পৃথিবী অন্ধকারময়। এবং এই মানুষ আকার ভজনের মাধ্যমেই মানবজীবন সার্থক হয়ে উঠবে।

মানুষ ছাড়া মনরে আমার
দেখবি সব অন্ধকার
লালন বলে, মানুষ আকার
ভজলে পাবি।৷

আমরা ইউরোপীয় রেনেসাঁসের কথাই বলি আর তার পরবর্তী বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদী দর্শনের কথাই বলি তার মূল সুর ছিল মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তা আবিষ্কার করে মানুষকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা। মানুষকেই সবার ওপরে স্থান দিয়ে মানুষের ভেতরের অনন্ত শক্তির আঁধারকে আবিষ্কার করা। লালন সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে। এমনকি সেটি করতে গিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টার সমকক্ষ করে তুলেছেন। এবং একমাত্র মানুষ ভজনের মাধ্যমেই মানবজীবনকে সার্থক করে তোলার কথা বলেছেন। তিনি বারবার এই মানবজীবনকে সবার ওপরে স্থান দিয়ে মানবজীবনকে বাঞ্ছাময় করে তোলার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান হলো এই মানবজীবন। তিনি যথার্থই বলেছেন, এই মানবজীবন চলে গেলে আর পাওয়া যাবে না। তাই সময় থাকতে মানবজীবনকে কর্মময় করে সার্থক করে তুলতে হবে। লালন বলেছেন,

এমন মানব জনম আর কি হবে
মন যা করো ত্বরায় করো এই ভবে।।

অনেক ভাগ্যের ফলে এই মানবজীবন আমরা পেয়েছি। বাউলের বিশ্বাস, জীব চৌরাশি লাখ যোনি ভ্রমণ করে ভারপর মানবজীবন পেয়েছে। তাই এটি অতি মূল্যবান। হেলাফেলায় এই জীবন নষ্ট করা উচিত নয়। মানবতাবাদী লালন পরজীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন না। তাই এই জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

কত ভাগ্যের ফলে না জানি
পেয়েছ এই মানব তরণী
বেয়ে ত্বরা তরী তোমার
শুধারায় ভারা যেন না ডোবে।।

লালন বলেছেন, এই মানবজনম দেবের আরাধ্য ধন। দেব-দেবতাগণ বারবার আরাধনা করে সৃষ্টার কাছে এই মানবজীবন প্রাথনা করেছেন। অর্থাৎ লালন এই মানবকে দেবদেবীর ওপরে স্থান দিয়ে মহিমান্বিত করে তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এই মানুষে আল্লাহর রূপের সর্বোত্তম প্রকাশ ঘটেছে। তাই আল্লাহ এই মানুষের মধ্যে দিয়ে নিজকে পৃথিবীতে প্রকাশ করেছেন। তাই স্বর্গের দেব-দেবতা এই মানুষের চেয়ে ছোট।

এই মানুষে হবে মাধুর্য্য ভজন
তাইতে মানব রূপ গঠলেন নিরঞ্জন।
দেব-দেবতাগণ করে আরাধন
জন্ম নিতে এই মানুষে।

তাই অটল বিশ্বাসে এই মানুষকেই ভজতে হবে। নইলে সেই অটল নিধির সন্ধান পাওয়া যাবে না। কোনো বেদ-কোরআন নয়, কোনো মন্দির-মসজিদে নয়, এই মানুষই সেই মানুষকে খোঁজ করতে হবে; নইলে সেই 'আলেক' মানুষ অচেনা, অধর হয়ে থাকবে —

অবিশ্বাসে পাইনে সেই মানুষ নিধি।
এই মানুষে মিলতো মানুষ চিনতাম যদি।।

তাই সহজ শুদ্ধ বিশ্বাসে মানুষ ভজতে হবে। মানুষের জ্ঞান সহজ মানুষ ধরে জেনে নিয়ে সেই মনের মানুষের সঙ্গে মিলনের সাধনা করতে হবে। কোনো অদেখা ঈশ্বর নয়, কোনো পুস্তকী দর্শন নয়, মানুষ গুরুই মানুষকে পারে পরিপূর্ণতা দান করতে। মানুষ গুরুই পারে এই ভজনহীন মানুষকে 'ইনসানুল কামেল' বা পরিপূর্ণ মানব বানাতে। তাই নিঃশর্তভাবে মানুষ গুরু ভজতে হবে,

ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার।।

এই মানুষ গুরুকে না ভজলে জীবনের সব বিফল হয়ে যাবে। এই জীবন হবে ব্যর্থ। আবার চৌরাশির ফেরে পড়তে হবে। তাই তো বারবার লালন এই মানুষের চরণ ভজনের কথা বলেছেন,

ভজ মানুষের চরণ দু’টি
নিত্য বস্তু হবে খাঁটি।
নইলে হবে সকল মাটি
ত্বরায় এই ভেদ লও জেনে।।

মানুষ গুরু পারের কাণ্ডারি, তেমনি এই মানবদেহই লালনের কাছে সবচেয়ে বড় তীর্থক্ষেত্রের স্থান। এই মানবদেহের চেয়ে পবিত্র কোনো তীর্থতুমি এই পৃথিবীতে নেই। লালন বলেছেন, আরবের মক্কাতে নয়, এই মানুষ মক্কাকেই কেবলা করে বরজোকে নামাজ আদায় করতে হবে।

পড় গা নামাজ জেনে শুনে,
নিয়্যাত বাঁধ গা মানুষ-মক্কা পানে।

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে মক্কার কাবা ঘর আল্লাহর ঘর এবং সেটাই মুসলমানের জন্য সবচেয়ে পবিত্র তীর্থভূমি। কিন্তু লালন বলেছেন, মক্কার কাবা নয়, এই মানবদেহে যে কাবা আছে সেই কাবাকেই কেবলা করতে হবে, তাতেই হজ করতে হবে। এবং সেটাই সতিকার অর্থে কাবা।

আছে আদি মক্কা এই মানব দেহে
দেখনারে মন ভেয়ে।
দেশ দেশান্তর দৌড়ে
মরছো কেন হাঁপিয়ে।।

লালনের কাছে এই দেহই সবচেয়ে পবিত্র তীর্থভূমি। এই দেহজরিপের মাধ্যমে দেহতাত্ত্বিক সাধনার মধ্যে দিয়েই মানুষ সিদ্ধি লাভ করতে পারে। লালনের এই বিশ্বাস তাঁর উজ্জরকালের কবি কাজী নজরুল ইসলামেরও —

মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

লালন এই মানুষের মধ্য দিয়ে ধর্ম, বিধাতা খুঁজোছেন। ধর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের নিষ্কৃতি তিনি খুঁজতে যাননি। তাঁর মতে, এই মানুষই ভজনের সার। এই মানুষকে ভুলে যতই ধর্ম-কর্ম করি না কেন, তাতে কোনো ফল হবে না। আমরা জানি, ধর্ম ও মানবতাবাদ দুটি বিপরীত প্রত্যয়। কিন্তু লালন এ দুটি প্রত্যয়কে এক করে দেখেছেন মানুষের ভেতর দিয়ে। মানুষ ছাড়া কোনো ঈশ্বর নেই। লালনের মতে,

অধর চাঁদের কতই খেলা সর্ব উত্তম মানুষ-লীলা
না বুঝে মন হলি ভোলা মানুষ বিরোধী (বা বিবাদী)।

ধর্মের নামে মানুষকে সর্বযুগে শোষণ করা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে মানুষে মানুষে বৈষম্য। কারণ ধর্মতত্ত্ববিদরা ধর্মকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ধর্মের নামে মানুষকে করেছেন খাটো। কিন্তু লালন বলেছেন — না, মানুষ ধর্মের জন্য নয় বরং ধর্মই মানুষের জন্য। তাই মানুষ ধর্মের চেয়ে ছোট হতে পারে না। লালনের উজ্জরকালের আর এক মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,

–মুর্খরা সব শোনো
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, –গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো ।

ধর্মের নামে মানুষকে হেয় করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এই ধর্মের নামেই মানুষকে সবচেয়ে বেশি অবদমিত করা হয়েছে। ধর্মের নামে মানুষকে অবমাননা লালনের সময়ে তো বটেই, বিংশ শতাব্দীতেও তা কম ছিল না। জাতপাতের করাল থাবা সমাজের মানুষে মানুষে এমন বিভেদ সৃষ্টি করে রেখেছিল যে একই সমাজের মানুষ একের ছোঁয়ায় অন্য অশুচি হয়ে যেত। জাতাজাতির জাতাজাতিতে নিচুতলার মানুষ নানাভাবে শোষিত-বঞ্চিত হচ্ছিল। লালন এসে বললেন, জাতের এই বৈষম্য তা সঠিক নয়। তিনি জাতপাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তাই তার পুনরুল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। তবু প্রাসঙ্গিকভাবে খুব সংক্ষেপে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

লালনের আগে জোরালোভাবে জাতকে প্রত্যাখ্যান করার সাহস তাঁর সমাজের কেউই করেননি। লালন করেছেন। কারণ তিনি জাতের দোহাই দিয়ে মানুষে মানুষে বৈষম্য মানতেন না। মানুষকে প্রকৃত অর্থেই মানুষ রতন বলে মানতেন। মানুষের চেয়ে বড় তাঁর কাছে কিছুই ছিল না। যে ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজের শাস্ত্রাচারী সুবিধাভোগীরা মানুষের মধ্যে জাতের বিশবাষ্প ঢুকিয়ে মানবতাকে খন্ডিত করেছিল লালন সেই ধর্মকে অস্বীকার করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, সমাজপতিরা জাতের কথা বলে নিচু শ্রেণির মানুষকে যে শোষণ করেছেন শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে তা ঠিক নয়। এবং শাস্ত্রে এ ধরনের জাতপাতের কোনো প্রমাণ নেই।

জাত বলিতে কী হয় বিধান
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিষ্টান
জাতির আছে কিবা প্রমাণ
শাস্ত্র খুঁজিলে।

শুধু তাই নয়, লালন বলেছেন, এই সমাজপতিদের জাতির নামে বৈষম্য তা কোনো শাস্ত্রের তো নয়ই, বরং মানুষের অজ্ঞতার ফসল। মানুষ পরস্পরকে জানত না বলেই এই সুযোগে সুবিধাবাদী সমাজপতিরা নিজদের মধ্যে বৈষম্যের রেখা টেনে দিয়েছে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। লালন তাই ধর্মের নামে শোষণ, নির্যাতন, সামাজিক বিভেদের বিরুদ্ধে হয়েছেন সোচ্চার। সমাজে প্রচলিত জাতপাতের বৈষম্য যে ধর্মের সৃষ্টি নয় বরং তা মানুষের অজ্ঞতার ফসল, সে কথাই তিনি বলেছেন দৃঢ়কণ্ঠে। যে সমাজের মানুষ যত অজ্ঞ সে সমাজে সামাজিক বৈষম্য এবং সামাজিক শ্রেণি শোষণ তত বেশি। তাই লালন সমাজের অজ্ঞ মানুষদের জাগিয়ে তুলতে গিয়ে এই স্বার্থান্বেষী মহলকে আঘাত করে সমাজে প্রচলিত বিভাজন সম্পর্কে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, জাতপাত প্রাচীন মানুষের অজ্ঞতার ফসল।

যে জাতির কথা বলে মানুষ বড়াই করে সেই জাতিও মানুষের সৃষ্টি এবং তা তাদের অজ্ঞতার ফসল। সুতরাং জাতি নয়, মানুষই বড়। তিনি এই পৃথিবীকে মানুষময় মানুষের জন্য ভেবেছেন। এই পৃথিবীতে মানুষই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো দৈবপুরুষ এসে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তাই এই পৃথিবীর সর্বত্র লালন শুধু মানুষকেই দেখেছেন এবং এই মানুষ দেখেই তাঁর আঁখি জুড়িয়েছেন। লালন বলেছেন,

যথা যাই মানুষ দেখি,
মানুষ দেখে জুড়ায় আঁখি।

জাত, ধর্ম, শাস্ত্র, কিতাব এবং ইস্বরের ওপরে মানবমহিমা প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা এটি ইতিহাসে খুব কম দেশে কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু লালন ফকির সেই উনিশ শতকের তমসাব্রত গ্রামীণ সমাজে বলে শাস্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে মানুষকে সবার ওপরে তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছেন। এজন্য তাকেও অনেক প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিরোধের মুখেই মানুষের মহিমাকীর্তন করা থেকে নিব্রত্ত হননি। আমরা আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে হয়তো উনিশ শতকের গ্রামীণ সমাজকে কল্পনা করতে পারব না। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কারে জর্জরিত সমাজ, যে সমাজে ধর্মব্যাবসায়ি  এবং সমাজপতিরা ছিল ভাগ্যনিয়ন্তা সেই সমাজে বসে লালন একা মানবতার গান গেয়ে গেছেন অকুণ্ঠচিত্তে। উনিশ শতকের শহুরে সমাজ হয়তো নানামুখী শিক্ষা ও মানবতার চর্চা হয়েছিল এবং নানা মানবতাবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব হয়েছিল। কিন্তু গ্রামীণ সমাজ ছিল তার উল্টো। সেই উল্টো সমাজে বসেই লালন তাঁর মানবতার সাধনা করে গেছেন নির্ভীক চিত্তে। বিশিষ্ট উপন্যাসিক অন্নদাশসঙ্কর রায় যথার্থই বলেছেন, 'বাংলার নবজাগরণে রামমোহনের যে ভূমিকা বাংলার লোকমানসে দেয়ালি উৎসবে লালনেরও একই গুরুত্ব।'

টীকা

  1. আবু ইসহাক হোসেন - বাংলার রেনেসাঁস ও লালন ফকির
  2. নগেন্দ্রনাথ বসু, বিশ্বকোষ, কলকাতা, ১৩৫৯, খণ্ড-১৪, পৃ-৫৮৩, বাংলাদেশ দর্শন — গতিশীল ও প্রকৃতি অনুসন্ধান, ২য় খণ্ড, পৃ-৬২৩।
  3. ওয়াকিল আহমেদ, স্বামী বিবেকানন্দ ও মানবতাবাদ, সূত্র — বাংলাদেশ দর্শন — গতিশীল ও প্রকৃতি অনুসন্ধান, ৩য় খণ্ড, পৃ-৪১৯।
  4. শ্রী সনৎকুমার মিত্র (সম্পাদিত), বাউল, লালন, রবীন্দ্রনাথ, পৃষ্ঠা ১৮১।

Comments

ইতিহাস এর অন্যান্য প্রবন্ধ

সর্বশেষ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তথ্য সম্পর্কে খবর

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপডেট থাকুন