মানবতাবাদ ভারতে অধুনিক দর্শন এবং অধুনিক রেনেসাঁসের ফল। মানবতাবাদ ল্যাটিন Humanism শব্দের প্রতিশব্দ। যার অর্থ হলো মানবিক বিশ্বাসের প্রতি অনুগত, মনুষ্যকল্যাণকের নীতিজ্ঞাত দর্শনিক মতবাদ। ধর্মতত্ত্ব বাদ দিয়ে কেবল নৈতিকতার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের কল্যাণ অনুসন্ধানই এর প্রধানতম উদ্দেশ্য। যদিও খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিক দার্শনিক প্রোটাগোরাস প্রথম মানবতাবাদের কথা বলেন, তবু রেনেসাঁস-পূর্ব পর্যন্ত ইউরোপে এই মানবতাবাদ ততটা প্রবলভাবে চরিত হয়নি। রেনেসাঁসের মূলমন্ত্র হলো মানব-মহিমা, বৃহৎ ও কঠিনার পুনঃঅভিজ্ঞান ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে বৃহতকে মুক্ত করে দেওয়া। রেনেসাঁস মানে নতুন করে জন্মে ওঠা। মানববৃত্তির যৌগিক মুক্তি। রেনেসাঁসের ইতিহাস তাই নতুন করে শুরু করার ইতিহাস — বৃহৎ ও কঠিনার মুক্তির ইতিহাস।
ইউরোপে মানবতাবাদের চর্চা রেনেসাঁসের ফলে হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে মানবতাবাদের চর্চার একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলা ভাষার অভিধান ও বিশ্বকোষগুলোতে 'মানব' শব্দটির উৎপত্তির মূলে 'মনুষ্য' অর্থাৎ মনুর অপভ্রংশ তথা 'মনু'র সেহতজ্ঞন বা পুত্রবর্গ বলে নির্দেশ করে এবং বলে যে মনুষ্যকে মানব বলা হয়।¹ তাই ইতিহাসের পাতা থেকে আমরা একথা বলতে পারি যে আর্য প্রভাব বিস্তার লাভের সময়পর্বের কোনো একসময়ে 'মনুর সন্তান মানুষ'র ধারণাটি ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে থাকবে। আর অর্থাৎ মানবসত্তা থেকেই মানবতাবাদ শব্দটি আসতে পারে।
বাংলাদেশে মানবতাবাদের এক দীর্ঘ ইতিহাসের সন্ধান আমরা পাই। আমাদের এখানে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানবতাবাদ সবার নজরে এসেছে। বাংলাদেশে মানবতাবাদের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের। অর্থাৎ চর্যাপদ থেকে এর চর্চার ইতিহাস আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আসে। সেই চর্যাপদী যুগ থেকে শুরু করে নাথগজিত, যুক্তিকাব্য, বৈষ্ণবমাহিত্য, সুফিমাহিত্য, শাক্তপদ, বাউলগান ইত্যাদির মধ্যা দিয়ে মানবতাবাদের অনুশীলনের ধারাবাহিক ইতিহাস আমাদের সামনে চলে আসে। চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন সহজিয়া যোগসাধকের অনুসারী। তাঁরা উদারপন্থী মানবতাবাদী ছিলেন। তারা সবাই যদিও উচ্চাঙ্গিক, শাস্ত্রজ্ঞানী সাধক ছিলেন তবুও তাদের মধ্যে সকল মানুষ এক ইস্বরের সৃষ্টি ও মানে-অবস্থান সবাই এক — এই ধারণার অনুশীলন ছিল। বিখ্যাত চর্যাপদ রচয়িতা কাহ্নপাদ তাঁদির মুখে চুম্বন এবং তার সঙ্গে প্রায়ের কথা বলেন। ভূসুকুপা এক ডোমকে বিয়ে করে বাস করে ছিলেন। আমরা জানি জাতিভেদ প্রথাকে বিলত ভারতীয় সমাজে ডোম বহুদিন নিম্ন প্রজাতির রমণী। কিন্তু চর্যাপদের রচয়িতারা নিজদের মধ্যে প্রজাভেদ মানতেন না। বরং বলা চলে সমাজের এই প্রজাভেদকে তাঁরা অস্বীকার করে মানবপ্রেমের মধ্যে বনীয়ান ছিলেন। তাঁদের কাছে সমাজ প্রবর্তিত জাতিভেদ প্রথা, প্রজাতি নয় অর্থাৎ মানবসত্তাই বড় ছিল। সরহপা তাই বলেন, ব্রাহ্মণ সম্পর্কে এমন উল্লেখ করতে গিয়েছেন অবলীলায়,
'ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মার মুখ হইতে হইয়াছিল; যখন হইয়াছিল, তখন হইয়াছিল, এখন তো অন্যতও বৈষ্ণর্প হয় ব্রাহ্মণে সৈক্ষপ হয়, তবে আর ব্রাহ্মণত্ব রহিল কি করিয়া?' 'সংস্কার ব্রাহ্মণ হয়, চণ্ডালকে সংস্কার দাও, সে ব্রাহ্মণ হতোক, যদি বলে যেম পাট্টিলে ব্রাহ্মণ হয় তাহারাতও পতুক, আর তাহারা পড়েও তো, ব্যাকরণের মধ্যে তো বেদের শব্দ আছে।'
তিনি তাঁর দোষা গানে স্পষ্ট আমায় বেদপাঠের বিরোধিতা করে বলেন,
কিং তো দিবে কিং তো নিবিজ্জে
কিং তো কিন্তুই মন্তহ সেব্বে।
কিং তো তিথ আপোবন যাই
মোকথ কি লভবই পানি হণই।
অর্থ — কী হবে তার দীক্ষা, কী হবে তার তীর্থবেদ্যা? কী হবে তার মন্ত্র ও সবায়? তীর্থে তপোবনে গিয়েই বা তার কী হবে? মোক্ষ কি লাভ হয় জলে স্নান করে?
কবি চণ্ডীদাস ঊঁদেরই উজ্জ্বলসাধক। তিনি নিজে উচ্চ প্রজার ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি রজকিনী রামীকে ভালোবেসে অপমানিত ও সমাজচ্যুত হন। কিন্তু মানবতাবাদের মহান কবি রজকিনীর প্রেম ভালনী এবং আপন বিশ্বাস হারাননি। যদিও তিনি বৈষ্ণব ছিলেন না, ছিলেন বাউল সেবক বা শৈবের উপাসক। কিন্তু তাঁর রচিত বৈষ্ণব পদ মানবপ্রেমে ভরপুর এবং মানবতাবাদের দিশারী। তিনিই উদাত্ত কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন,
প্রণয় মানুষ তাই,
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
তিনি মানুষে মানুষে ভেদভেদ মানতেন না। তাঁর কাছে মানুষই সব, মানুষ সবার ওপরে। ধর্ম, গোত্র, জাতি, ইস্বর — সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ তাঁর কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তার মতে, মানুষ সবাই অমৃতের সন্তান। মানুষে মানুষে যে ভেদ তা সঠিক নয়। মানুষ মানুষই। সকল মানুষ সমান। তাই তো তিনি ব্রাহ্মণ হয়ে জ্ঞানপার মেয়ে রজকিনী রামীকে ভালোবেসে সমাজকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের মহিমাকীর্তন করেছেন বলিষ্ঠ কণ্ঠ।
এদেশে সুফিদের আগমন শুরু হয় অষ্টম শতাব্দী থেকে চৌদ্দশ হয়। কিন্তু ব্রয়াদশ শতাব্দীতে ইরানীয়ার উলিন বংশীয়রা পিলোটি রাজধীর ক্রমতা দখল করলে সুফিয়া তাদের আদর্শ, ধর্ম ও দর্শন ব্যাপকভাবে প্রচার শুরু করেন। ইতোমধ্যে ইরানি সুফিমত বাংলার লোকায়ত দর্শনের প্রভাবে নতুন রূপ লাভ করেছে। সুফিতত্ত্বের মধ্যে বাংলার মানবিক মরমি দর্শন ঢুকে পড়ে। প্রেমপণ্ডী সুফিদের মধ্যে মানবতাবাদের উন্মেষ ঘটে। সুফিদের 'মান আরাফা নাফসমা হু ফাকাত আরাফা রাব্বাহ' — বাংলার লোকায়ত দর্শনের স্পষ্ট নব প্রাণ লাভ করে। ইসলামের ভজিমার্গের সঙ্গে প্রেমমার্গ মিলে নতুন ধারার সৃষ্টি হয়। সুফিদের সাধ্য-সাধনা হয়ে ওঠে মানবিক। মানুষের ভেতর দিয়েই সুফিরা আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা করতে থাকেন। ফলে ভজন সাধন হয়ে ওঠে মানুষমুখী। সুফিদের প্রেমতত্ত্বের সঙ্গে মানবতাবাদ বাংলায় নতুন জোয়ার নিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে পলনদা শতকে অরবিন্দ হয় শ্রীচৈতন্যদেব। তিনি সংসারধর্মে তাগ করে কুষ্টপ্রাপ্তে মাতোয়ারা হয়ে থাকতেন। তিনি সংস্কারপন্থী হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথার প্রতি কুঠারাঘাত করেন। তাঁর মতে, ভগবান কোনো জাত নেই। তিনি বলেন, 'মুক্ত হয় প্রতি যদি কুষ্ট ভজে' অথবা 'চণ্ডালহস্তি পিশাচাদি হরিভক্তপরায়ণঃ'² — কুষ্টভক্তপরায়ণ চণ্ডাল কুষ্টভক্তীন ব্রাহ্মণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। হিন্দু সমাজের কঠোর বর্ণপ্রথার কারণে সমাজের নিম্ন প্রজার মানুষ যখন মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো না, তখন চন্ডাল, মুক্ত প্রভূতি বর্হীন মানুষকে তিনি এভাবে মহিমা প্রদান করেন। একটু পরে শতকে সম্পূর্ণ আকবরের জীন-ই-এলাহি নামে এক সর্বসম্পন্ন নতুন ধর্ম প্রবর্তন করে হিন্দু-মুসলমানকে হিন্দু-মুসলমান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখে তাদের এক কাতারে আনার চেষ্টা করেন। তাঁর জীন-ই-এলাহিতে সব ধর্মের লোকের সমান প্রবেশাধিকার ছিল। সবাই এই ধর্মে সমানভাবে মোক্ষ লাভের সুযোগ পেত। এখানে ইতিহাসিভাবে পাথেয়া করা হতো না। ভারতজুড়েই ইতিহাসের নানা পর্বে শাস্তাদারি কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদ তথা গৈড় ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি উদারপন্থী মানবিক ধর্ম ও দর্শনের চর্চা সমানভাবে হয়েছে। তারই ধারাবাহিক উজ্জরকালের সাধক হিসেবে লালন ফকিরের আবির্ভাব। তাই লালন ফকির গতিশীলিক উজ্জরাধিকার হিসেবেই মানবতাবাদকে পেয়েছিলেন।
লালন তত্ত্বজ্ঞানী বাউলসাধক। তাঁর সমখানায়ের সাধনার তাপিস থেকে তিনি তাঁর পদ রচনা করেছেন। বাউলে মতবাদকে পরিত্যাগ করে মতবান হিসেবে মানতে নারাজ। কিন্তু এই মতবাদের আচারের মধ্যে ধর্মীয় সাধনার অনেক উপাদানই বর্তমান। বাউলে মতবাদম্বীরা সমাজের নীচ স্তরের মানুষ। এই মানুষগুলো ইতিহাসের প্রতিটি পর্বেই শাস্তাদারি ধর্মের গোলামের শিকার হয়ে এসেছে। তাই শাস্ত্রীয় ধর্ম তাদের কাছে অনরকটাই পরিত্যাজ্য এবং তাদের জীবনের মুক্তির পরিপন্থী। বাউল সমখানায়ের লোকেরা সমাজের সহজ মানুষ। তারা কোনো সামাজিক ইস্বরের কাছে তাদের মুক্তি খুঁজে পাননি। তাই তারা মানুষের শরণাপন্ন হয়েছেন জীবনের মুক্তির জন্য। এ কারণেই এসব মতবাদ এতটা মানবতাবাদী।
আমরা ভারতের গতিশীলিক মানবতাবাদের ইতিহাসের পথ ঘুরে এলাম। দেখলাম ভারতে মানবতাবাদের ইতিহাস অনেক পুরনো। ইতিহাসের নানা পর্বে সমাজের ধর্মীয় বিরুদ্ধ মতবাদ হিসেবেই ভারতীয় মানবতাবাদের চর্চা হয়েছে। লালনে এসে এই মানবতাবাদ আরো উজ্জ্বল আকার ধারণ করেছে। এর কারণ মনে হয় ইউরোপীয় রেনেসাঁস এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। ততদিনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে তার শিকড় গেড়ে বসেছে। তারা নানামুখী শিক্ষার প্রচলন এদেশে শুরু করে দিয়েছে। যার ফলে রাজা রামমোহন রায়, ইস্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হেনরি লুই ভিভিয়ান্সিও, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয় কুমার দত্ত, কুষ্ট মোহন ব্যানার্জী, রাম গোপাল ঘোষ, রসিক কুমার মল্লিক, শিবচন্দ্র দেব, হরচন্দ্র মেয়াজ, রাখানাথ শিকদার, কেশব চন্দ্র সেন প্রমুখ শত্তের মানবতাবাদীর আবির্ভাব ঘটে। লালন প্রামের মানুষ। গ্রামীণ সমাজই তাঁর কর্মকাঠ ব্যাপৃত। লালন হয়তো উজ্জ্বলিষ্ট শত্তের মানবতাবাদীদের মতো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হিলেন না এবং ইউরোপীয় মানবতাবাদের সঙ্গে হয়তো তার পরিচয় ঘটেনি, কিন্তু ভারতীয় গতিশীলিক মানবতাবাদের উজ্জরমূর্তি তিনি। তাই তাঁর দর্শনে মানবতাবাদ আধুনিক ইউরোপের মানবতাবাদ থেকে আকার-প্রকার হয়তো কিছুই ভিন্ন। কিন্তু মূলে-মতে বা যে একই দর্শনের এপিটো-গ্রীস্ট বা বোঝ করি সবাই মানবেন। লালনের দর্শনের বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই রয়েছে মানুষ ও মানবতাবাদ। তিনি মানুষ ভিন্ন আর অন্য কিছু মানতে নারাজ। লালন মরমি ধারার সাধক। তাঁর সাধনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মনের মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়া। এই মনের মানুষ সেই পরম সত্তা। তবে সেই পরমের আবাসভূমি হিসেবে লালনশৈলে এই দেহধারী মানুষই অস্ত্রিক গুরুত্ব পেয়েছে। আমার ভেতর দিয়েই সেই অদেখা আলোকসত্তার খোঁজ তারা করেছে। এইখানটায়ে লালনের দর্শন আর প্রচলিত ধর্মীয় দর্শনের মধ্যে তফাত। লালনশৈলে বলা হয়েছে, ইস্বর বা আল্লাহ বলে যদি কিছু থাকে, তবে তা এই মানুষের ভেতর দিয়েই প্রকাশিত। তাই ভজন-পূজন সব এই মানুষেই লীন হওয়া উচিৎ। লালন এই মানুষের বাইরে আর অন্য কোনো তত্ত্ব মানতে নারাজ।
মানুষ তত্তু যার সত্য হয় মনে
সে কি অন্য তত্তু মানে।
এই 'মানুষতত্ত্ব' দেহধারী মানুষের তত্তু। এই কায়ার মধ্য দিয়ে সেই কায়মহীনের সন্ধানই বাউলের সাধ্য-সাধনার মূল লক্ষ্য। কারণ বাউলে বিশ্বাস করে এই মানুষের মধ্যেই সেই পরম মানুষ লীলাভূমির বাস করেছেন। তাই তাকে ধরতে হলে এই মানুষই তাকে ভালাম করতে হবে। লালন বলেছেন,
এই মানুষে আছের মন
যারে বলে মানুষ রতন
ফকির লালন বলে পেয়ে সে ধন
পারলাম না চিনতে।
সুফিদের সেই 'ইলমুল্্যাকী খালোকান আনামা ওয়ালাহ সুরাতিহি' — অর্থাৎ আমি আপন সুরতে আমা তৈরি করেছি — এই বাক্য মনে নিয়ে আরো একটু গভীরে গিয়ে লালন বলেছেন, এই মানুষই ইস্বরের প্রতিরূপ। অর্থাৎ লালন আল্লাহ এবং আদমকে এক রুপে এক সত্তায় দেখেছেন,
নামে আনিক নুকুয় যেমন
মানুষে সাই আছে তেমন
তা নইলে কি সব নুরিলন
আদমতে সজলো জানায়।
এখানে সাই এবং মানুষ একে অপরের পরিপূরক। আল্লাহ আপন সুরতে আমা তৈরি করে নিজে তার মধ্যে আত্মা হিসেবে বলে আদমকে চেতনা দান করেছেন। তাই এই আমা সৃষ্টার প্রতিরূপ, অর্থাৎ কিন্তু লালন বলেন,
সেই সে আদমের ঘরে
অনন্ত কুটীর গড়ে
মায়াখানে হাতলে কল জুড়ে
কীটিকর্মা বসলেন তথা।
সুতরাং সেই কীটিকর্মা এবং আমা ভিন্ন কিছু নয়। তাই আল্লাহ কেয়রজাদের এই মানুষকে সজলো করতে শুরুম দিয়েছেন। শাস্ত্রীয় ধর্ম মনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সজলো করা হারাম। কিন্তু আল্লাহ নিজে তাঁর কেয়রজাদের আদমকে সজলো করার শুরুম দিলেন। কেন? লালন বলেন,
আল্লাহ আমা না হইলে
পাখ হইতো সজলো দিলে
গেরেকি পাখ যাকে বলে
এ জীন দুনিয়ায়।
এবং তদেয় বড় মানুষের মহিমাকীর্তন আর কোথাও আছে কি না তা ভবে দেখার ব্যাপার। মানুষকে ইস্বরের স্থানে প্রতিষ্ঠাপন করার মতো মানবতাবাদী চিন্তা আর কোথাও করেছে কি না তাও ভবাবার বিষয়। মানুষই ইস্বরের প্রতিরূপ। তাই মানুষকে ভজনা করলেই ইস্বর ভজনা হয়। সে কারণেই লালন বারবার মনুষ ভজনের ওপর জোর দিয়েছেন।
সহজ মানুষ ভজ দেখ নারে মন দিয়া জনে
পাবিরে অমৃল্যা নিধি বর্তমানে।
লালনের কাছে এই বর্তমানটাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। কারণ মানুষের জীবন বর্তমানকে ঘিরে অবর্তীত। আর এই বর্তমানকে মহিমাময় করে তুলতে গেলে এই মানুষকে ভজনার মধ্য দিয়ে সনার মানুষ হতে হবে। লালন এই মানুষকে ভজনা করাই সবকিছুর মূল বলে রায় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই মানুষকে ভজনা না করলে সমুলে ক্ষয়েস হতো হবে। লালন বলেছেন,
মানুষ ভজলে সনার মানুষ হবি
নইলে পরে স্বাপাদের তুই মূল হারাবি।
প্রম তাই নয়, তিনি আরো বলেছেন, এই মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই নাই। মানুষ ভজনের জ্ঞান ছাড়া এই পৃথিবী অজ্ঞকারময়। এবং এই মানুষ আকার ভজনের মাধ্যমেই মানবজীবন সার্থক হয়ে উঠবে।
মানুষ ছাড়া মনের আমার
দেখবি সব অজ্ঞকার
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে পাবি।
আমরা ইউরোপীয় রেনেসাঁসের কথাই বলি আর তার পরবর্তী বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদী দর্শনের কথাই বলি তার মূল সুর ছিল মানুষের অজ্ঞনীঘিত সত্তা আবিষ্কার করে মানুষকে পরিপূর্ণভাবে উপযক্তাপন করা। মানুষকেই সবার ওপরে স্থান দিয়ে মানুষের ভেতরের অনন্ত শক্তির আয়াকে আবিষ্কার করা। লালন সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে। এমনকি সেটি করতে গিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টার সমকক্ষ করে তুলেছেন। এবং একমাত্র মানুষ ভজনের মাধ্যমেই মানবজীবনকে সার্থক করে তোলার কথা বলেছেন। তিনি বারবার এই মানবজীবনকে সবার ওপরে স্থান দিয়ে মানবজীবনকে বাঞ্ছায় করে তোলার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে সবকিছুর তদেয় মূল্যবান হলো এই মানবজীবন। তিনি যথার্থই বলেছেন, এই মানবজীবন চলে গেলে আর পাওয়া যাবে না। তাই সময় থাকতে মানবজীবনকে কর্মময় করে সার্থক করে তুলতে হবে। লালন বলেছেন,
এমন মানব জীবন আর কি হবে
মন যা কর তুরায় কর এ ভবে।
অনেক ভাগ্যের ফলে এই মানবজীবন আমরা পেয়েছি। বাউলের বিশ্বাস, জীব ডোরাসি লাখ যোনি ভ্রমণ করে ভারপর মানবজীবন পেয়েছে। তাই এটি অতি মূল্যবান। যেলোয়েক্লায় এই জীবন নষ্ট করা উচিত নয়। মানবতাবাদী লালন পরজীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন না। তাই এই জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
কত ভাগ্যের ফলে না জানি
পেয়েছ এই মানব তরণী
বেড়ে তুরা তরী তোমার
প্রভোরায় তারা যেন না ডোবে।
লালন বলেছেন, এই মানবজনম দেবের আয়াজ ধন। দেব-দেবতাগণ বারবার আয়াজনা করে সৃষ্টার কাছে এই মানবজীবন থাপনা করেছেন। অর্থাৎ লালন এই মানবকে দেবদেবীর ওপরে স্থান দিয়ে গধিমাপিত করে তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এই মানুষে আল্লাহর রূপের সাদৃশ্য প্রকাশ ঘটেছে। তাই আল্লাহ এই মানুষের মধ্যে দিয়ে নিজকে পৃথিবীতে প্রকাশ করেছেন। তাই ঘরনের দেব-দেবতা এই মানুষের চেয়ে ছোট।
এই মানুষে হবে মাছরে ভজন
তাইতে মানুষ রূপ গঠিলেন নিরঞ্জন
দেব-দেবতাগণ করে আয়াজন
জন্ম নিতে এই মানুষে।
তাই অটলে বিশ্বাসে এই মানুষকেই ভজতে হবে। নইলে সেই অটলে নির্মিত সন্ধান পাওয়া যাবে না। কোনো বেদ-কোরআন নয়, কোনো মন্দির-মসজিদে নয়, এই মানুষই সেই মানুষকে খোঁজ করতে হবে; নইলে সেই 'আলোক' মানুষ অচেনা, অস্পর হয়ে থাকবে —
অবিশ্বাসে পাইবেন সেই মানুষ নিয়ে
এই মানুষে মিলতে মানুষ চিনতাম যদি।
তাই সহজ গুরু বিশ্বাসে মানুষ ভজতে হবে। মানুষের জ্ঞান সহজ মানুষ ঘরে জন্ম নিয়ে সেই মনের মানুষের সঙ্গে মিলনের সাধনা করতে হবে। কোনো আদেশ ইস্বর নয়, কোনো পুস্তকী দর্শন নয়, মানুষ গুরুই মানুষকে পারে পরিপূর্ণতা দান করতে। মানুষ গুরুই পারে এই ভজনহীন মানুষকে 'ইনসানুল কামেল' বা পরিপূর্ণ মানব বানাতে। তাই নিষ্ঠাতাবাদে মানুষ গুরু ভজতে হবে,
ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
সব সাধন সিদ্ধ হয় তার।
এই মানুষ গুরুকে না ভজলে জীবনের সব বিষয় হয়ে যাবে। এই জীবন হবে ব্যর্থ। আবার ডোরাসির ফরে পড়তে হবে। তাই তো বারবার লালন এই মানুষের চরণ ভজনের কথা বলেছেন,
ভজ মানুষের চরণ দুটি
নিজ বস্তু হবে খাটি
নইলে হবে সকল মাটি
তুরায় এ ভেস লও ভজে।
মানুষ গুরু পারের কাঠগড়ি, তেমনি এই মানবদেহই লালনের কাছে সবচেয়ে বড় তীর্থক্ষেত্রের স্থান। এই মানবদেহের চেয়ে পবিত্র কোনো তীর্থতুমি এই পৃথিবীতে নেই। লালন বলেছেন, আবরবের মক্কাতে নয়, এই মানুষ মক্কাকেই কেবলা করে বরজোকে নামাজ আদায় করতে হবে।
পড় গা নামাজ ভজে গুরু
নিজত বাঙ্গ গা মানুষ মক্কা পানে।
ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে মক্কার কাবা ঘর আল্লাহর ঘর এবং সেটাই মুসলমানের জন্য সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থামি। কিন্তু লালন বলেছেন, মক্কার কাবা নয়, এই মানবদেহে যে কাবা আছে সেই কাবাকেই কেবলা করতে হবে, তাতেই হজ করতে হবে। এবং সেটাই সতিকার অর্থে কাবা।
আমি মক্কা এই মানবদেহে
দেখনারে মন ভেয়ে
দেশ দেশান্তরে ডোটে
মরণ্ড কলে ইটিপায়।
লালনের কাছে এই দেহই সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থামি। এই দেহজরিপের মাধ্যমে দেহতার্তিক সাধনার মধ্যে দিয়েই মানুষ সিদ্ধি লাভ করতে পারে। লালনের এই বিশ্বাস তাঁর উজ্জরকালের কবি কাজী নজরুল ইসলামেরও —
মিথ্যা খলিনি তাই
এই কুদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির-কাবা নাই।
লালন এই মানুষের মধ্য দিয়ে ধর্ম, বিধাতা খুঁজোছেন। ধর্মের মাধ্যমে মানুষের নিম্নতি তিনি খুঁজতে যাননি। তাঁর মতে, এই মানুষই ভজনার সার। এই মানুষকে ছাড়া যতই ধর্ম-কর্ম করি না কেন, তাতে কোনো ফল হবে না। আমরা জানি, ধর্ম ও মানবতাবাদ দুটি বিপরীত প্রতয়। কিন্তু লালন এ দুটি প্রতয়কে এক করে দেখেছেন মানুষের ভেতর দিয়ে। মানুষ ছাড়া কোনো ইস্বর নেই। লালনের মতে,
অসর বাঁধের কতই খেলা
সব উড়ে মানুষ লীলা
না বুঝে মন হলি ভোলা
মানুষ বিরোধী।
ধর্মের নামে মানুষকে সর্বস্তগে শোষণ করা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে মানুষে মানুষে বৈষম্য। কারণ ধর্মতন্ত্রবিদরা ধর্মকে অস্ত্রিক গুরুত্ব দিয়ে ধর্মের নামে মানুষকে করেছেন খাটো। কিন্তু লালন বলেছেন — না, মানুষ ধর্মের জন্য নয় বরং ধর্মই মানুষের জন্য। তাই মানুষ ধর্মের চেয়ে ছোট হতে পারে না। লালনের উজ্জরকালের আর এক মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,
মুক্তিয়া সব খোলা
মানুষ এনেছে প্রাণ
প্রাণ আননি মানুষ কোনো!
ধর্মের নামে মানুষকে যেয় করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এই ধর্মের নামেই মানুষকে সবচেয়ে বেশি অবনমিত করা হয়েছে। ধর্মের নামে মানুষকে অবমাননা লালনের সময়ে তো ঘটেই, বিশ্ব শতাব্দীতেও তা কম ছিল না। জাতপাতের কারণ থাকা সমাজের মানুষে মানুষে এমন বিভেদ সৃষ্টি করে রেখেছিল যে একই সমাজের মানুষ একের হ্রায়াম অন্য অস্পৃশ্য হয়ে যেত। জাতাজাতির ঊঁতাউনিতে নীচতলার মানুষ জাতাজাতির শোষিত-বঞ্চিত হত্ছিল। লালন এসে বললেন, জাতের এই বৈষম্য তা সঠিক নয়। তিনি জাতপাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গোমণা করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তাই এব গুলসনজ্ঞাপ নিশ্ঠয়াজন। তবু প্রাসঙ্গিকভাবে পুনর সংক্ষেপ কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।
লালনের আগে জোরালোভাবে জাতকে প্রত্যাখ্যান করার সাহস তাঁর সমাজের কেউই করেননি। লালন করেছেন। কারণ তিনি জাতের লোমই দিয়ে মানুষে মানুষে বৈষম্য মানতেন না। মানুষকে থকত অর্থাৎ মানুষ রতন বলে মানতেন। মানুষের চেয়ে বড় তাঁর কাছে কিছুই ছিল না। যে ধর্মের লোমই দিয়ে সমাজের শাস্তাদারি সুবিধাবাদীরা মানুষের মধ্যে জাতের বিবর্তন তৈরির মানবতাকে খটিত করেছিল লালন সেই ধর্মকে অস্বীকার করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, সমাজপতিরা জাতের কথা বলে নীচ প্রজাতির মানুষকে যে শোষণ করেছেন শাস্ত্রের লোমই দিয়ে তা ঠিক নয়। এবং শাস্তে এ ধরনের জাতপাতের কোনো প্রমাণ নেই।
জাত বলিতে কী হয় বিশান
হিন্দু মুসলমান বৈষ্ণ গ্রিষ্ঠান
জাতির আছে কিবা প্রমাণ
শাস্ত খুঁজিলে।
প্রম তাই নয়, লালন বলেছেন, এই সমাজপতিদের জাতির নামে বৈষম্য তা কোনো শাস্ত্রের তো নয়ই, বরং মানুষের অন্তর্দার ফল। মানুষ পরস্পরকে জানত না বলেই এই সুযোগে সুবিধাবাদী সমাজপতিরা নিজদের মধ্যে বৈষম্যের রেখা টেনে দিয়েছে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। লালন তাই ধর্মের নামে শোষণ, নির্যাতন, সামাজিক বিভেদের বিরুদ্ধে হয়েছেন সোচ্চার। সমাজে প্রচলিত জাতপাতের বৈষম্য যে ধর্মের সৃষ্টি নয় বরং তা মানুষের অন্তর্দার ফল, সে কথাই তিনি বলেছেন দৃঢ়কণ্ঠে। যে সমাজের মানুষ যত অন্ত সে সমাজে সামাজিক বৈষম্য এবং সামাজিক প্রজাতি শোষণ তত বেশি। তাই লালন সমাজের অন্ত মানুষদের জাতিভেদ তুলতে গিয়ে এই স্বার্থান্বেষী মহলকে আয়াত করে সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তি সম্পর্কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, জাতপাত খাটিন মানুষের অন্তর্দার ফল।
যে জাতির কথা বলে মানুষ বড়ই করে সেই জাতিও মানুষের সৃষ্টি এবং তা তাদের অন্তর্দার ফল। সুতরাং জাতি নয়, মানুষই বড়। তিনি এই পৃথিবীকে মানুষময় মানুষের জন্য ভেবেছেন। এই পৃথিবীতে মানুষই মানুষের বিপদে পাশে ঈঁটিটের তাকে সাহুন্য দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো স্বর্গপুরুষ এসে মানুষের পাশে ঈঁটায়ানি। তাই এই পৃথিবীর সর্বন্দ্রে লালন প্রম্ভ মানুষকেই দেখেছেন এবং এই মানুষ দেখেই তাঁর ঊঁচি জুড়িয়েছেন। লালন বলেছেন,
যথা যাই মানুষ দেখি
মানুষ দেখে জুড়াই ঊঁচি।
জাত, ধর্ম, শাস্ত, কিতাব এবং ইস্বরের ওপরে মানবমহিমা প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা একটি ইতিহাসে পূর্ব কম দেশে কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু লালন ফকির সেই উন্নিশ শতকের তমসাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজে বলে শাস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দিয়ে মানুষকে সবার ওপরে তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছেন। এভনা তাকেও অনেক প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিরোধের মুখেই মানুষের মহিমাকীর্তন করা থেকে নিরুৎসাহ হননি। আমরা আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে বলে হয়তো উন্নিশ শতকের গ্রামীণ সমাজকে কঠিনাকা করতে পারব না। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কারে ভজ্বরিত সমাজ, যে সমাজে ধর্মবাসমারী এবং সমাজপতিরা ছিল ভগানিয়জ্ঞা সেই সমাজে বলে লালন একা মানবতার গান গেয়ে গেছেন অনুতুঙ্গিতে। উন্নিশ শতকের শেষের সমাজ হয়তো নানামুখী শিক্ষা ও মানবতার চর্চা হয়েছিল এবং নানা মানবতাবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব হয়েছিল। কিন্তু গ্রামীণ সমাজ ছিল তার উলোটো। সেই উলোটো সমাজে বলেই লালন তাঁর মানবতার সাধনা করে গেছেন নির্ভীক চিত্তে। বিনশিত ওগনাসিক অধ্যাপকের রায় যথার্থই বলেছেন, 'বাংলার নবজাগরণে রামমোহনের যে ভূমিকা বাংলার লোকমানসে দয়ালি উৎসবে লালনেরও একই গুরুত্ব।'³
টীকা
¹ 'সংজ্ঞুনাথ বসু, বিশ্বকোষ, কলকাতা, ১৩৫৯, খণ্ড-১৪, পৃ-৫৮৩, বাংলাদেশ দর্শন — গতিশীল ও প্রকৃতি অনুসন্ধান, ২য় খণ্ড, পৃ-৬২৩।'
² 'অসোকিন আহমেদ, শামী বিবেকানন্দ ও মানবতাবাদ, সূত্র — বাংলাদেশ দর্শন — গতিশীল ও প্রকৃতি অনুসন্ধান, ৩য় খণ্ড, পৃ-৪১৯।'
³ 'শ্রী সনজ্ঞকুমার মিত্র (সম্পাদিত), বাউল, লালন, রবীন্দ্রনাথ, পৃষ্ঠা ১৮১।'

Comments