“✨ ১২ বছরের গল্প, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে কুষ্টিয়াশহর.কম”

Select your language

বিষাদ সিন্ধুর স্রষ্টা মীর মশাররফ হোসেন
মীর মশাররফ হোসেন (ছবি: কুষ্টিয়াশহর.কম)
  • Sub Title: লাহিনীপাড়ার মাটিতে জন্ম, পদমদিতে সমাধি — বাঙালি মুসলমান সাহিত্যের পথিকৃতের যাচাইকৃত সম্পূর্ণ জীবনচিত্র

১৯ শতকের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের পথিকৃৎ যাঁদের হাতে গড়া, তাঁদের সবার আগে দাঁড়িয়ে আছেন কুমারখালীর লাহিনীপাড়ার সন্তান মীর মশাররফ হোসেন। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগেই তিনি বাংলা গদ্যে এমন সব উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন, যেগুলো বাঙালি মুসলমানের প্রথম সাহিত্য-অভিব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। আর তাঁর সবগুলোর মধ্যে অমর হয়ে আছে 'বিষাদ সিন্ধু' — কারবালার কান্না যেখানে পেয়েছে বাংলা ভাষার নিজস্ব, স্বচ্ছন্দ রূপ।

গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে জন্ম, পদমদির নবাববাড়িতে জীবনের বড় অংশ, কাঙাল হরিনাথের হাতে সাহিত্যের দীক্ষা, ছত্রিশটির মতো গ্রন্থ, আর প্রয়াণের একশো বছরেরও বেশি সময় পরেও যত্নের অভাবে জরাজীর্ণ দুটি স্মৃতিকেন্দ্র — মীর মশাররফ হোসেনের জীবনগাথা এভাবেই সাজানো। কুষ্টিয়ার এই কৃতী সন্তানের সম্পূর্ণ জীবনচিত্র এবং সম্প্রতি তাঁর স্মৃতিপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা নিয়েই আজকের বিস্তারিত আয়োজন।

জন্ম, বংশ ও পদমদির নবাববাড়ি

মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৭ সালে, কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া গ্রামে, গড়াই নদীর কাছে। জন্মতারিখ হিসেবে ১৩ নভেম্বরই সবচেয়ে প্রচলিত — বাংলাপিডিয়াসহ প্রায় সব নথি এই তারিখেই জন্মবার্ষিকী পালন করে; তবে কিছু গবেষক ২৬ অক্টোবর বলেন, এবং দুই উইকিপিডিয়াই এই মতভেদের কথা উল্লেখ করে। জন্মগ্রামটি ছিল তাঁর মাতুলালয় বা নানাবাড়ি; পৈতৃক বাড়ি ছিল পদমদিতে (বর্তমান রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নে)। প্রচলিত বানানে গ্রামটিকে অনেকে 'লক্ষ্মীপাড়া' লিখলেও নথিভুক্ত নাম লাহিনীপাড়া।

মীর মশাররফ হোসেন

মীর মশাররফ হোসেনের প্রচলিত প্রতিকৃতি (ছবি: কুষ্টিয়াশহর.কম)

পিতা নবাব সৈয়দ মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন পদমদি নবাব এস্টেটের জমিদার; মাতা দৌলতুন্নেছা বেগম। পদমদি নবাব পরিবারের ইতিহাস পেছনে পাঁচ শতক — ১৬০৭ সালে সৈয়দ শাহ পাহলোয়ান মুঘল সরকারের কাছ থেকে জায়গির হিসেবে এলাকা পান; পরে জামাতা সৈয়দ শাহ সাদুল্লাহ মীর বংশধারা শুরু করেন। কথিত আছে, সম্রাট শাহজাহান এই বংশকে 'মীর' উপাধি দিয়েছিলেন। মীর মোয়াজ্জেম হোসেনের ঘরেই জন্ম মশাররফ হোসেনের, আর জীবনের অধিকাংশ সময়ও তিনি কাটিয়েছেন পদমদির এই নবাববাড়িতে।

শিক্ষাজীবন

শিক্ষাজীবনের শুরু ঘরেই — মুনশির কাছে আরবি ও ফারসি, পাঠশালায় বাংলা। এরপর কুষ্টিয়া স্কুল, পদমদি নবাব স্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল (পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) আর শেষে কলকাতার কালীঘাট স্কুলে ভর্তি হলেও লেখাপড়া আর বেশি দূর অগ্রসর হয়নি — বাংলাপিডিয়ার ভাষায় এই-টুকুই। তবে আত্মজীবনীতে তিনি জগমোহন নন্দীর পাঠশালা ও কুমারখালীর ইংলিশ স্কুলেও পড়ার কথা বলেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সীমিত থাকলেও আরবি-ফারসি-বাংলার নিবিড় সংস্পর্শ আর নিরলস স্বশিক্ষাই পরে তাঁর কলমকে দিয়েছে গতি।

কাঙাল হরিনাথ ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা: সাহিত্যের শুরু

ছাত্রাবস্থাতেই মীর মশাররফ হোসেন সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকার মফস্বল সংবাদদাতা হিসেবে লেখালেখি শুরু করেন। এই গ্রামবার্তা প্রকাশিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদকই হলেন কুমারখালীর আরেক কিংবদন্তি কাঙাল হরিনাথ মজুমদার — বাংলাপিডিয়ার মতে, মীর মশাররফের সাহিত্যজীবনের প্রত্যক্ষ প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতাও মূলত এঁরই। মীর মশাররফ নিজে আত্মজীবনীতে লিখেছেন —

"হরিনাথবাবু মহাশয় আমাকে কনিষ্ঠ ভ্রাতার ন্যা স্নেহ করিতেন।"

কুমারখালীর এই দুই মনীষীর সম্পর্কটা কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। জমিদার-নীলকর অত্যাচারের সংবাদ প্রকাশে গ্রামবার্তার সাহসী ভূমিকা অনেকাংশেই গড়ে দিয়েছিল মীর মশাররফের লেখক-জীবনের ভিত — পরে 'জমিদার দর্পণ'-এর মতো সামাজিক প্রহসনে সেই অভিজ্ঞতা সাহিত্য হয়ে উঠেছে।

সাহিত্যকর্ম: ছত্রিশ গ্রন্থের পথিকৃত

বাংলাপিডিয়ার মূল্যায়নে মীর মশাররফ হোসেন "বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।" তাঁর যাচাইকৃত গ্রন্থতালিকায় সংখ্যা ছত্রিশের কাছাকাছি — উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, ধর্মীয় জীবনী আর স্মৃতিকথার বিপুল সমাহার।

মুসলিম রচিত প্রথম উপন্যাস ও নাটক

প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' (১৮৬৯) — বাংলা উইকিপিডিয়ার বর্ণনায় এটিই মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস। তাঁর 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) মুসলমানের লেখা প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যে মুসলমানের উপন্যাস আর নাটক — দুটি ধারারই প্রথম দোভাষী একজন মানুষ। এছাড়া 'গো-জীবন' (১৮৮৯), 'বেহুলা গীতাভিনয়' (১৮৮৯), 'নিয়তি কি অবনতি' (১৮৮৯), 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০), 'তহমিনা' (১৮৯৭), 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' (১৮৯৯), 'মদিনার গৌরব' (১৯০৬), 'আমার জীবনী' (১৯০৮-১৯১০) — তালিকাটা দীর্ঘ। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য লেখা 'মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা' (১৯০৩, ১৯০৮) তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক মননেরও প্রমাণ।

কৃষক-বিদ্রোহ থেকে গোরাই-ব্রিজ

১৮৭৩ সালেই বেরোয় তাঁর তিনটি গ্রন্থ। এর একটি 'জমিদার দর্পণ', সিরাজগঞ্জের কৃষক-বিদ্রোহের (১৮৭২-৭৩) পটভূমিতে লেখা সামাজিক প্রহসন, যেখানে জমিদারি শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গে। আর সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক হয়তো 'গোরাই-ব্রিজ বা গৌরী-সেতু' (১৮৭৩) — কুষ্টিয়ার জীবনরেখা গড়াই নদীর নামই তাঁর গ্রন্থের শিরোনামে উঠে এসেছিল। গড়াই নদীর অতীত-বর্তমান নিয়ে আমাদের বিস্তারিত প্রবন্ধে যে নদীর কথা, সেই নদীর সেতু নিয়েই ঊনিশ শতকে লিখেছিলেন কুমারখালীর এই সাহিত্যিক।

বিষাদ সিন্ধু: কারবালার বিষাদ বাংলায়

তিন খণ্ডে প্রকাশিত 'বিষাদ সিন্ধু' — প্রথম খণ্ড (মহরম পর্ব) ১৮৮৫, দ্বিতীয় খণ্ড (উদ্ধার পর্ব) ১৮৮৭ আর তৃতীয় খণ্ড (এজিদ-বধ পর্ব) ১৮৯১। বিষয় কারবালার ট্র্যাজেডি — ইসলামের ইতিহাসের সেই বেদনাঘন অধ্যায়, যেখানে হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগের কাহিনি বলা হয়। বাংলাপিডিয়ার মূল্যায়ন: "তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।"

শুধু বিষয়ের জন্য নয়, ভাষার জন্যই 'বিষাদ সিন্ধু' ইতিহাসে থেকে গেছে। ফারসি-আরবি শব্দে ভারী মুসলমানি বাংলার বদলে মীর মশাররফ ব্যবহার করেছেন স্বচ্ছন্দ সাধু-চলিতের মিশেল প্রবহমান গদ্য — যা হিন্দু-মুসলমান দুই পাঠকগোষ্ঠীকেই সমানভাবে টেনেছে। গ্রন্থটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত; গ্রন্থটির সুনাম এতটাই যে ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি থেকে ফকরুল আলমের অনুবাদে ইংরেজিতে বেরোয় 'An Ocean of Sorrow'।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কণ্ঠস্বর

নিজ সমাজের চোখে পড়ে বিতর্কও হয়েছে মীর মশাররফের। 'গোকুল নির্মূল আশঙ্কা' প্রবন্ধে গরু-মাংস ভক্ষণের বিরোধিতা করায় তিনি নিজ সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হন — বাংলাপিডিয়া তাঁকে সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে মুক্ত লেখক বলেই চিহ্নিত করে। 'গো-জীবন' গ্রন্থে হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃত্ব নিয়ে তাঁর যে মন্তব্য, তা আজও সময়োপযোগী:

"এই বঙ্গরাজ্যে হিন্দু-মোসলমান উভয় জাতিই প্রধান। পরস্পর এমন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে, ধর্ম ভিন্ন, কিন্তু মর্মে ও কর্মে এক-সংসার কার্যে, ভাই না বলিয়া আর থাকিতে পারি না।"

'ইসলামের জয়' গ্রন্থে জাফরের মুখে তিনি স্বাধিকারের যে উচ্চারণ গড়েন, তা সাহিত্যের ভেতরেই তাঁর স্বদেশপ্রেমের সাক্ষ্য — "স্বরাজ যদি পররাজ হইল, তবে গোলামী করিয়া জীবন ধারণ করা অপেক্ষা জীবনপাত করাই শ্রেয়।" মাতৃভাষা নিয়েও তাঁর অবস্থান ছিল দুর্নিবাড়: "মাতৃভাষায় যাহার আস্থা নাই, সে মানুষ নহে।"

সম্পাদক মীর মশাররফ ও শেষ জীবন

সাহিত্যিকের পাশাপাশি মীর মশাররফ সংবাদপত্র-সম্পাদকও ছিলেন। প্রথমা স্ত্রী আজিজুন্নেসার নামে 'আজিজননেহার' (১৮৭৪) নিয়ে সম্পাদকত্ব শুরু; পরে 'হিতকরী' (১৮৯০) — যেটি প্রথমে লাহিনীপাড়া থেকে, পরে টাঙ্গাইল থেকে বিরতিসহ মোট পাঁচ বছর চলে। এদিকে কর্মজীবনেও পালা বদল: পিতার জমিদারি দেখাশোনা, ফরিদপুর নবাব এস্টেটের (অর্থাৎ পদমদি) চাকরি, ১৮৮৫ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এস্টেটের ম্যানেজারের দায়িত্ব, শেষে ১৯০৩-০৯ সময়ে কলকাতায় বসবাস। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে ১৮৬৫ সালে পিতৃবন্ধুর কন্যা আজিজুন্নেসার সঙ্গে বিবাহ; ১৮৭৪ সালে দ্বিতীয় বিবাহ হয় বিবি কুলসুমের সঙ্গে।

পদমদিতে সমাধি

মীর মশাররফ হোসেন মারা যান ১৯ ডিসেম্বর, পদমদিতে। প্রয়াণবছর নিয়ে সূত্রভেদ রয়েছে — বাংলাদেশি প্রচলিত রীতিতে ১৯১১, বাংলাপিডিয়ার দুই সংস্করণেই ১৯১২ লেখা। ১৯ ডিসেম্বর তারিখটি অবশ্য অবিবাদী; প্রতি বছর এই দিনেই পালিত হয় তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁকে পদমদির পারিবারিক কবরস্থানে স্ত্রী বিবি কুলসুমের পাশে সমাহিত করা হয়। জন্ম কুমারখালীর মাটিতে, কর্মের বড় অংশ পদমদির নবাববাড়িতে — বৃহত্তর কুষ্টিয়ার এই দুই ভূমির মিলনস্থল যেন তাঁর পুরো জীবন।

স্মৃতিকেন্দ্র ও বর্তমান অবস্থা

মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি এখন দুই জেলায় ছড়িয়ে — জন্মভিটা লাহিনীপাড়ায় (কুষ্টিয়া) এবং সমাধিস্থ পদমদিতে (রাজবাড়ী)। কিন্তু দুটির অবস্থাই আশার মতো নয়।

লাহিনীপাড়ার বাস্তুভিটা

মূলত ৩২ বিঘার জন্মসম্পত্তির বেশিরভাগই এখন বেদখল; হাতে রয়েছে মাত্র তিন বিঘা। তবু এখানে ১৯৭২ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৯২ সালে পাঠাগার, ১৯৯৫ সালে উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে ওঠে; ২০০৮ সালে ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় 'মীর মশাররফ হোসেন মেমোরিয়াল লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম অ্যান্ড মিউজিয়াম'। কুমারখালী উপজেলার সরকারি দর্শনীয় স্থানের তালিকাতেও জায়গাটি আছে। কিন্তু যত্নের অভাব নগণ্য নয় — সম্প্রতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই 'মীর মশাররফ হোসেনের জাদুঘর থেকে দানবাক্স চুরির' খবরও পত্রপল্লবে উঠেছে (ইত্তেফাক)।

মীর মশাররফ হোসেনের জন্মভিটার নির্দেশক সাইনবোর্ড, কুমারখালী

লাহিনীপাড়ায় জন্মভিটার নির্দেশক সাইনবোর্ড (ছবি: কুষ্টিয়াশহর.কম)

পদমদি স্মৃতিকেন্দ্র

পদমদির স্মৃতিকেন্দ্র নির্মিত হয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে, বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে — ১ একর ৮৪ শতাংশ জমিতে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল। কিন্তু ২৫ বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রটি নেমে এসেছে অবহেলায় — সম্প্রতির সংবাদ-প্রতিবেদন বলছে, ভবনের দেয়ালে ফাঙ্গস ও ফাঁটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, চুরি যাচ্ছে বাতি, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে কেন্দ্র, দায়িত্বে মাত্র দুজন কর্মী। মীর মশাররফ হোসেনের লেখা বইগুলো তখন পাঠকের অপেক্ষায় বুক-সেলফে সাজানো।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত মীর মশাররফ হোসেনের ১৭০তম জন্মবার্ষিকীর পোস্টার

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৭০তম জন্মবার্ষিকীর পোস্টার, ২০১৭ (ছবি: কুষ্টিয়াশহর.কম)

উপসংহার

এক জীবনে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানের প্রথম উপন্যাস, প্রথম নাটক আর সর্বকালের সবচেয়ে প্রিয় ধর্মীয়-মহাকাব্যিক কাহিনি — তিনটিই মীর মশাররফ হোসেনের সৃষ্টির স্বাক্ষর। গড়াইয়ের তীরের সেই লাহিনীপাড়া আজ জরাজীর্ণ, পদমদির স্মৃতিকেন্দ্রও অবহেলায় জর্জরিত — তবু প্রতি বছর ১৩ নভেম্বরের জন্মবার্ষিকী আর ১৯ ডিসেম্বরের প্রয়াণদিবসে ফুল দিতে আসেন ভক্তেরা। মীর মশাররফ হোসেনকে সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখার দায় তাই কাগজে-কাঠের সংরক্ষণের বদলে তাঁর বই পড়ার মধ্যেই — 'বিষাদ সিন্ধু'র পাতা ঘোরালেই যে কারবালার বিষাদ আজও বাংলায় কাঁদে।

তথ্যসূত্র ও আরও পাঠ

  • বাংলাপিডিয়া — "হোসেন, মীর মশাররফ" (বিমল গুহ): bn.banglapedia.org
  • বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি) — "Hossain, Mir Mosharraf": en.banglapedia.org
  • বাংলা উইকিপিডিয়া — মীর মশাররফ হোসেন: bn.wikipedia.org
  • বাংলা উইকিপিডিয়া — পদমদি নবাব: bn.wikipedia.org
  • বাংলা উইকিপিডিয়া — মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র: bn.wikipedia.org
  • বাংলা উইকিপিডিয়া — মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা: bn.wikipedia.org
  • কালি ও কলম — "সম্পাদক মীর মশাররফ হোসেন": kaliokalam.com
  • নাগরিক-প্রথম আলো — "মীর মশাররফের স্বদেশপ্রেম ও মানবতাবোধ" (আফতাব চৌধুরী): nagorik.prothomalo.com
  • বাংলা ট্রিবিউন — "লাহিনীপাড়ায় মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতির পথে" (সেপ্টেম্বর ২০২৬): banglatribune.com
  • খবরসংযোগ — "অযত্নে-অবহেলায় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র": khoborsangjog.com
  • দৈনিক শিক্ষা — জন্মবার্ষিকী নিবন্ধ: dainikshiksha.com
Add comment
কোন প্রকার অশ্লীল কমেন্ট করা যাবে না, করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতিহাস এর অন্যান্য প্রবন্ধ

সর্বশেষ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তথ্য সম্পর্কে খবর

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপডেট থাকুন