বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী চেতনায় এক অবিচ্ছেদ্য নাম বাউল সম্রাট ফকির লালন শাঁই। প্রতি বছর তাঁর তিরোধান দিবসকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়িতে আয়োজিত হয় হাজারো ভক্ত, অনুসারী ও দর্শনার্থীর মিলনমেলা।
এবারের আয়োজন পেয়েছে নতুন মর্যাদা — সরকারিভাবে “ক শ্রেণীর জাতীয় অনুষ্ঠান” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে লালন শাঁইজীর তিরোধান দিবস।
📅 ১৩৫তম তিরোধান দিবস – ২০২৫
- 👉 সময়: ১৭–১৯ অক্টোবর ২০২৫
- 👉 স্থান: ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া
🏛️ সরকারি মর্যাদা লাভ
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, লালন শাঁইজীর তিরোধান দিবসকে ক শ্রেণীর জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানটির অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া।
এই ঘোষণার মাধ্যমে লালনের দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও ব্যাপকভাবে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আশা করা হচ্ছে।
🌿 লালনের দর্শন ও গুরুত্ব
ফকির লালন শাঁই (১৭৭৪–১৮৯০) ছিলেন বাঙালি আধ্যাত্মিক নেতা, সমাজ সংস্কারক ও মিস্টিক কবি। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মাঝে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁর গান ও বাণী আজও বাঙালির সংস্কৃতিতে মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।
🎶 আয়োজনের বিশেষ দিক
এই বছরের তিরোধান দিবসে আয়োজন করা হবে নানা কর্মসূচি:
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সাধুসঙ্গ
- লালন সংগীত প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
- কর্মশালা ও আলোচনা সভা
- রাতভর আখড়ায় লালন গানের আসর
- দেশি-বিদেশি সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা
🌍 জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কুষ্টিয়াবাসী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁদের মতে, “এই ঘোষণা লালনের তিরোধান দিবসকে একটি আঞ্চলিক উৎসব থেকে জাতির গর্বের উৎসবে পরিণত করবে। এতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও লালনের দর্শন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।”

Comments