“✨ ১২ বছরের গল্প, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে কুষ্টিয়াশহর.কম”

Select your language

মোঃ হযরত আলী
মোঃ হযরত আলী

মোঃ হযরত আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাসেবী। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই করেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কাছে শিক্ষকতা ছিল কেবল একটি পেশা নয়—ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

মোঃ হযরত আলী ৮ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইব্রাহিম মন্ডল এবং মাতা মরহুমা আলেছা খাতুন।

তিনি বিবাহিত। ১৯ মে ১৯৮৭ সালে তিনি মোছা. শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

শিক্ষাজীবন

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। ১৯৭৮ সালে লালপুর, নাটোরের ওয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর ১৯৮০ সালে লালপুরের আব্দুলপুরে অবস্থিত আব্দুল ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৮৪ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে তিনি ১৯৯৫ সালে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর থেকে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষকতা জীবনের শুরু

মোঃ হযরত আলী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখেন।

তাঁর শিক্ষকতা জীবনের প্রধান কর্মস্থল ছিল দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

৭ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় চার দশকের কাছাকাছি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবন হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক দীর্ঘ যাত্রা।

শিক্ষকতা: শুধু পেশা নয়, দায়িত্ব

মোঃ হযরত আলীর কাছে শিক্ষকতা কখনোই শুধুমাত্র জীবিকা অর্জনের মাধ্যম ছিল না। তিনি মনে করতেন, একজন শিক্ষক একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়ের জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়াকেও তিনি শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন।

তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন—একজন শিক্ষার্থীর জীবনে একজন শিক্ষকের প্রভাব অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

অবসর গ্রহণের পরও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা

দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তবে অবসর তাঁর শিক্ষার প্রতি ভালোবাসার সমাপ্তি ঘটাতে পারেনি।

অবসর গ্রহণের পরও তিনি শিক্ষকসমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি ও মতামত প্রকাশ করে চলেছেন। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য প্রাপ্যতা নিয়ে তিনি সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

তাঁর দৃষ্টিতে একজন শিক্ষক অবসর গ্রহণ করলেও তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সমাজের প্রতি অবদান শেষ হয়ে যায় না।

শিক্ষকসমাজ নিয়ে তাঁর ভাবনা

মোঃ হযরত আলী বিশ্বাস করেন, একজন শিক্ষক তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার কাজে ব্যয় করেন। তাই কর্মজীবন শেষে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, প্রাপ্য সুবিধা ও সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাঁর ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—

একজন শিক্ষক অবসর নিলেই তাঁর অবদান শেষ হয়ে যায় না। তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের পথ দেখায়।

এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর শিক্ষকতা-পরবর্তী কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়।

জীবনদর্শন

শিক্ষা, শিক্ষকতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে মোঃ হযরত আলী মনে করেন, একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর জীবনদর্শনের মূল কথাটি সংক্ষেপে বলা যায়—

শিক্ষক মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরি করেন। তাই শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্মান রক্ষা করা।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং অবসর-পরবর্তী সময়েও শিক্ষকসমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে তাঁর চিন্তা তাঁকে একজন শিক্ষাসেবী হিসেবে পরিচিত করেছে।

নাম মোঃ হযরত আলী
পরিচয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাসেবী
জন্মতারিখ ৮ ডিসেম্বর ১৯৬২
পিতা মরহুম ইব্রাহিম মন্ডল
মাতা মরহুমা আলেছা খাতুন
শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি, এইচএসসি, বিএ, বি.এড ও এম.এ
শিক্ষকতায় যোগদান ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬
অবসর ডিসেম্বর ২০২২
প্রধান কর্মস্থল দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
বৈবাহিক অবস্থা বিবাহিত
স্ত্রী মোছা. শাহনাজ পারভীন
বিবাহের তারিখ ১৯ মে ১৯৮৭
সন্তান দুই কন্যা
মোবাইল ০১৭৪০৮২৯৭৫৯
ই-মেইল এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।

উত্তরাধিকার

একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন কেবল তাঁর কর্মজীবনের পদবি বা চাকরির মেয়াদ নয়; তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা পাওয়া মানুষগুলোর জীবনে তাঁর রেখে যাওয়া প্রভাবই তাঁর প্রকৃত উত্তরাধিকার।

মোঃ হযরত আলীর প্রায় ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবন সেই উত্তরাধিকারেরই একটি অধ্যায়। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবসর-পরবর্তী সময়ে শিক্ষকসমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি ধারাবাহিক যাত্রা।

অবসর তাঁর কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে, কিন্তু শিক্ষা ও শিক্ষকসমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধের যাত্রা এখনও চলমান।

Comments

কুষ্টিয়া সম্পর্কিত তথ্য

সর্বশেষ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তথ্য সম্পর্কে খবর

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপডেট থাকুন